‘আমেরিকান অভ্যুত্থানকে’ উপড়ে ফেলতেই ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বামপন্থি সাংস্কৃতিক অভ্যুত্থানের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বিক্ষোভ ছিল ‘আমেরিকান অভ্যুত্থান’কে উপড়ে ফেলার ষড়যন্ত্র। তিনি শুক্রবার ৪ জুলাইয়ের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন। সাউথ ডাকোটার রাশমোর পর্বতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মাস্ক না পরেই বেশিরভাগ মানুষ অংশ নেয়। ছিল না সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো চিহ্ন। খবর ভয়েস অব আমেরিকা ও ডেইলি মেইলের।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এখন স্কুলে শিশুদের নিজেদের দেশকে ঘৃণা করতে শেখানো হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকার রীতি-নীতিকে সুরক্ষায় বামপন্থিদের পক্ষ থেকে চরমপন্থি আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। তিনি বামপন্থি সাংস্কৃতিক অভ্যুত্থানের কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেন, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ নামের যে বিক্ষোভ গড়ে উঠেছিল তা ছিল ‘আমেরিকান অভ্যুত্থান’র প্রতি হুমকিস্বরূপ। ট্রাম্প তাকে যারা সমর্থন করেন না তাদেরকে খারাপ ও শয়তান লোক বলে আখ্যা দেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি আমেরিকার মহত্ ব্যক্তিদের নিয়ে ‘ন্যাশনাল গার্ডেন অব হিরোজ’ গঠন করবেন। এই ভাস্কর্য রক্ষা করতে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি ভাস্কর্য ধ্বংসকারীদের গ্রেফতারের আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের ভাষণের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এবং অধিকাংশ সমবেত লোকজনও মাস্ক পরেননি এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো চেষ্টা করা হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করেছেন যে, সাউথ ডাকোটার এই অনুষ্ঠান ব্যাপকভাবে করোনা ভাইরাসের উত্স হয়ে উঠতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, আব্রাহাম লিংকন ও থিওডর রুজভেল্টের কথা উল্লেখ করেন যাদের প্রতীকি এই পর্বতে খচিত আছে। সেখানকার আদিবাসীরা মনে করেন, এসব নেতার ভাস্কর্য খচিত করে তাদেরকে অপমান করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান সামাজিক ন্যায় বিচার বিষয়ক আন্দোলন প্রকৃত পক্ষে ন্যায় বিচার ও সমাজ উভয়কেই ধ্বংস করবে। তার ভাষণের পর সেখানে আতশবাজির খেলা হয়। করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে এই খেলা নিয়ে দেশটিতে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

LEAVE A REPLY