করোনার ঝুঁকি সত্ত্বেও ৯১ লাশ দাফন, নীরবেই কাজ করছে ‘এহসান পরিবার’

নারায়ণগঞ্জে করোনা পরিস্থিতিতে কেউ লাশ ধরছে না। ঠিক সেই সময় করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে একের পর এক লাশের গোসল, জানাজা দাফন-কাফনে এগিয়ে এলেন কিছু লোক। এসেই মৃতের পরিবারকে বললেন, আমাদেরকে লাশ বুঝিয়ে দিন। হোক তা করোনা রোগী বা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু। গোসল থেকে শুরু করে জানাজা দাফন-কাফন সব আমরা করে দেব। কোনও বিনিময় দিতে চাইলে আমরা নেই না। বিনিময় আমার আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে নিব। 

এভাবেই “এহসান পরিবার” নামে একটি প্রচারবিমুখ সদ্য গঠিত অরাজনৈতিক সংগঠন করোনা পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ৯১ টি লাশ কবরস্থ ও সৎকার করেছে। শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, রাজধানী ঢাকাতে লাশ দাফন কাফনে কাজ করছে এই পরিবারটি। এর মধ্যে একজন হিন্দু ব্যক্তির সৎকারও করেছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরী।  
ইতোমধ্যে “এহসান পরিবার” নামে একটি ফেসবুক পেজ জেলায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর আগে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীররা করোনার প্রথম থেকেই  শহরের ভাসমানদের রান্না করা খাবার বিতরণ, দুস্থ ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সামগ্রী বিরতণসহ বিনামূল্যে শিশু খাদ্য ও দুধ পৌঁছে দিচ্ছে, যা এখনো চলমান। তাদের ফেসবুক পেজ ঘুরলেই দেখা যায়, নানা স্বেচ্ছা কর্মের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি।সংগঠনের জিম্মাদার নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আনোয়ার হোসেন আজ শুক্রবার বিকেলে জানান, এহসান শব্দের অর্থ দয়া, উপকার ও সহযোগিতা। করোনা পরিস্থিতির প্রথম দিকে মার্চ মাসে ‘এহসান পরিবার’ নামে একটি সংগঠন করে আমরা প্রায় ১১ দিন যাবত জেলায় ভাসমানদের মধ্যে ৩০০ প্যাকেট করে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছি। আমরা কিছু তাবলীগ জামায়াতের সাথীসহ নানা সংগঠনের পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা নিজেরাই অনুদান দিয়ে সংগঠন কার্যক্রম শুরু করি। এরই মধ্যে জেলায় করোনায় মারা গেলে মানুষ লাশ ধরতে এগিয়ে আসা বন্ধ করে দেয়। 

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে কেউ করোনাসহ নানা ব্যাধিতে মারা গেলে বিনা পারিশ্রমিকে লাশের জানাজা, দাফন-কাফন ও সৎকার সম্পন্ন করব বলে সিদ্ধান্ত নেই। সেই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার পর্যন্ত ৯১ টি লাশ কবরস্থ ও সৎকার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন হিন্দুও রয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের এই কবরস্থ ও সৎকার ছাড়াও ত্রাণ বিতরণ, নগদ অর্থ প্রদান ও সামর্থ্যহীন শিশু পরিবারের মধ্যে দুধ বিতরণ কর্মসূচি চলছে।

সংগঠন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমাদের কাজের প্রথম উদ্দেশ্যে মানুষ দেখার আগে আল্লাহর কাছে আমাদের কাজ কবুল হচ্ছে কিনা। বেশি প্রচার প্রচারণায় জড়িয়ে পড়লে নিয়্যতের একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে শরীয়ত মতে কোন কাজে অনুপ্রেরণার জন্য ও মানুষকে কাজে সম্পৃক্ত করতে আমরা প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেকে আছে এ ভালো কাজে সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছেন কিন্তু প্রকৃত মানুষ খুঁজে পাচ্ছে না। কাকে দিয়ে প্রকৃতভাবে মানব সেবার কাজগুলো করানো যায়। 

তিনি আরও জানান, সংগঠনের প্রথম থেকেই আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল আমরা কোন রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং এহসান  পরিবারের সাথীরা আখেরাতের নেকি হাসিলের উদ্দেশ্যে কাজ করে যাবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সংগঠনটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে আমাদের এই স্বেচ্ছা শ্রমে রাজনৈতিক জনপ্রতিধিসহ অনেকেই নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাদেরকে আমাদের শরীক বলতে পারি। তবে সংগঠনের সবচয়ে বড় পরিচয় এটি একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাশ্রম পরিবার।

LEAVE A REPLY