ভেন্যুতেই থাকবে আইসোলেশন সেন্টার

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

গত মার্চ থেকে মাঠে নেই ক্রিকেট। দেশে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম সবই বন্ধ। প্রযুক্তির কল্যাণে ক্রিকেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সক্রিয় আছে। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির কারণে শারীরিকভাবে অফিসে না এলেও বিসিবির কর্মকর্তারা বাসায় বসেই নিজেদের কাজগুলো করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে অনেকে অফিসেও আসছেন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন বিভিন্ন বিভাগের ম্যানেজারদের নিয়ে মিটিং করছেন বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

এসব মিটিংয়ের মাধ্যমেই করোনা-পরবর্তী সময়ে ক্রিকেট পুনরায় শুরুর পুরো রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিসিবি। কবে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম শুরু করা যাবে, তা কারোই জানা নেই। জুলাই মাসেও ক্রিকেট গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রস্তুতির দিক নিজেদের ঘাটতি রাখছে না বিসিবি। করোনা উত্তর সময়ে কাজের জন্য স্ট্যার্ন্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করে রেখেছে বিসিবি। এখন অপেক্ষা শুধু বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার।

প্রাথমিকভাবে অনাবাসিক ক্যাম্প শুরুর চিন্তাই করছে বিসিবি। যার পরিকল্পনাও তৈরি হয়ে গেছে। যেখানে ড্রেসিংরুম ব্যবহারে কার্যত নিরুত্সাহিত করা হবে ক্রিকেটারদের। বাসা থেকে এসে অনুশীলন সেরে আবার বাসায় ফিরে যাবেন ক্রিকেটাররা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিভিন্ন স্থাপনা ব্যবহার না করার নির্দেশনা থাকবে। আবার বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে আইসোলেশন সেন্টার করা হবে। যাদের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হবে। যেমনটা মিরপুর স্টেডিয়ামে বিসিবি একাডেমি ভবনে কয়েকটি রুম আইসোলেশনের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

জানতে চাইলে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘আমরা যখন অনুশীলন শুরু করব, চাইব যেন ড্রেসিংরুম ব্যবহার না হয়। কেননা ড্রেসিংরুম জীবাণু ছড়ানোর একটা ভালো জায়গা। আমরা যখন অনুশীলন শুরু করব, চেষ্টা করব ড্রেসিং রুম বন্ধ রাখতে। বাসা থেকে প্রস্তুত হয়ে অনুশীলন সেরে ক্রিকেটাররা সরাসরি বাসায় চলে যাবে। শুধু ড্রেসিং রুম না, নির্দেশনা দেওয়া হবে কোনো কিছুই যেন ব্যবহার করতে না হয়। না পারলে টয়লেট ও না। তবে জরুরি প্রয়োজনের জন্য আমরা টয়লেট প্রস্তুত রাখব। এগুলো যতকম ব্যবহার করবে তত নিরাপদ থাকবে।’

অনুশীলন ভেন্যুতে আইসোলেশন সেন্টার রাখা হবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। গতকাল দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘তবে অনুশীলন ভেন্যুতে আমাদের আইসোলেশন সেন্টার রাখতে হবে। ধরেন মাঠের মধ্যে কেউ অসুস্থ অনুভব করলে। তখন কী করব? আমাদের একাডেমিতে কিছু রুম আছে, দু-তিনটা রুম হয়তো প্রস্তুতি করে রাখব যাতে করে তারা ওখানে বিশ্রাম নিতে পারে। আমরা চাইব—এসব অবকাঠামো যত কম ব্যবহার করতে পারে।’

তবে আবাসিক ক্যাম্প করার চিন্তাও রয়েছে বিসিবির। সেক্ষেত্রে কোনো একটি হোটেলে রাখা হবে ক্রিকেটারদের। পরিস্থিতিই বলে দেবে কোন পথে হাঁটবে বিসিবি।

LEAVE A REPLY