যেভাবে ডুবে গেল মর্নিং বার্ড..

চোখের পলকে ডুবে গেল যাত্রীবোঝাই লঞ্চটি। মাত্র ১৫ সেকেন্ডে মর্মন্তুদ দৃশ্য অবলোকন করল বেশুমার মানুষ। ফরাশগঞ্জ ঘাটের এক দোকানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে লঞ্চ দুর্ঘটনার এ ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কীভাবে ময়ূর-২ লঞ্চটি ছোট লঞ্চ মর্নিং বার্ডকে চাপা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে ডুবিয়ে দিচ্ছিল। মাত্র ১৫ সেকেন্ড সময়ে চোখের নিমিষেই মর্নিং বার্ড লঞ্চটি পানির অতলে হারিয়ে যায়।

ভিডিও ফুটেজ অনুসারে দেখা যাচ্ছে, সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে ফরাশগঞ্জ ঘাটে প্রতিদিনের মতো লোকজন ব্যস্ত তার দৈনন্দিন কাজ নিয়ে। ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ’র একটি ভেঁকু দিয়ে মাটি সরানোর কাজ করছে। এরই মধ্যে একটি সাদা রঙের লম্বাকৃতির তিন তলা লঞ্চ দ্রুতগতিতে লালকুঠি ঘাটের দিকে পিছনের দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যাচ্ছে। তিন তলাবিশিষ্ট ময়ূর-২ লঞ্চ এগিয়ে যাচ্ছে। লঞ্চের পিছনের অংশ স্পর্শ করে আরো একটি ছোট লঞ্চ যাচ্ছে।

বড় লঞ্চটি ছোট লঞ্চটিকে ঠেলে নিয়ে যেতে থাকে। সেকেন্ডের মধ্যে ছোট লঞ্চটি বড় লঞ্চের নিচে চলে যায়। এক পর্যায়ে তা দুমড়েমুচড়ে পানিতে তলিয়ে যায়। বড় লঞ্চটি এবার সামনের দিকে এগুতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে ফরাশগঞ্জ ঘাট থেকে মানুষ কাজ ফেলে ট্রলার নিয়ে ছুটে যায়। শুরু হয় উদ্ধার কাজ।

কীভাবে লঞ্চটি ডুবল—জানতে চাইলে আবদুর রউফ বলেন, ঘাটের কাছে আসতে আমরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাত্ করে ঘাটে ময়ূর-২ নামে একটি খালি লঞ্চ আমাদের লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়। ভয়ে আমরা সবাই চিত্কার করতে থাকি। ১৫/২০ সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের লঞ্চটি কাত হয়ে তলিয়ে যায়। আমরা ছিলাম লঞ্চের নিচের তলায়। পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকি। দম আমার বের হয়ে যাচ্ছিল, কোনোমতে সাঁতরে বের হয়ে আসি। কিন্তু আমার বন্ধু সত্যরঞ্জন উঠতে পারেনি, সে মারা গেছে।

LEAVE A REPLY