৫২ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে পল্টন থানায় দুই মামলা

লিবিয়ায় মানবপাচার, নির্যাতন ও প্রতারণা এবং ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় ৫২ জনের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এ মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও লিবিয়ায় পাচার হওয়া এক ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ পর্যন্ত লিবিয়ায় বাংলাদেশি হত্যা ও মানবপাচারের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১ জুন লিবিয়ায় পাচারের শিকার ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৩৮ জনকে আসামি করে সিআইডি একটি মামলা করে। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। তার ছেলে লিবিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। ডিবি (ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ) এটির তদন্ত করছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫মিনিটে সিআইডি বাদী হয়ে মানবপাচার ও লিবিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩৬ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মানবপাচার এবং সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন পাচারের শিকার এক যুবকের বাবা আবদুল মান্নান। যেটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)।

এ বিষয়ে ডিবির উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মান্নানের ছেলেকে দালালরা লিবিয়ায় পাঠিয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে পরিবার যোগাযোগ করতে পারছে না। সে বেঁচে আছে না মারা গেছে, তাও স্পষ্ট নয়। মামলাটি আমরা (ডিবি উত্তর) তদন্ত করব। বাদীর ছেলে রাকিবসহ অন্যান্যদের কীভাবে লিবিয়ায় নেয়া হয়েছে এবং মামলার আসামিরা ছাড়াও আর কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হবে।

মামলার বাদী আবদুল মান্নান বলেন, গত ৭-৮ মাস আগে পরিচিত মোহসিন ও মনির তার ছোট ছেলে রাকিবকে লিবিয়ায় পাঠানোর কথা বলেন। তারা প্রলোভণ দেখান, রাকিব সেখানে অনেক টাকা বেতন পাবে। রাজি হয়ে প্রথম দফায় কিছু জমি-জমা বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকা মোহসিনের হাতে দেন মান্নান। এরপর রাকিবকে লিবিয়ায় পাঠান তারা। কিন্তু সেখানে তাকে জিম্মি করে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকার জন্য নির্যাতন করা হয়। পরে বাকি জমি-জমা বিক্রি করে মোহসিনের হাতে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা দিই। এ সময় মনির লিবিয়ায়। এরপরও ছেলেকে মারা হয়। এখন ছেলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে একদল মানবপাচারকারী ও তাদের স্বজনরা। ওই ঘটনায় চার আফ্রিকান অভিবাসীও নিহত হন।

ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একজনের বরাতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উন্নত জীবিকার সন্ধানে ইউরোপ যাওয়ার জন্য ত্রিপলির উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন ৩৮ বাংলাদেশি। ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ওই দলটি লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে অর্থ নিয়ে বচসা হয়। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৩০ জনকে হত্যা করে, আরও ১১ জন আহত হন।

LEAVE A REPLY