জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু : যুক্তরাষ্ট্রের গণবিক্ষোভকে যেভাবে দেখছে চীন

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখন যে তীব্র গণবিক্ষোভ চলছে তার উপর নজর রাখছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু চীনে যেন একটা বাড়তি আগ্রহ নিয়ে এই বিক্ষোভ দেখা হচ্ছে।

গত বছর যখন হংকং-এ গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছিল তখন তাতে সমর্থন দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কাজেই এবার যখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়েছে, তখন বেইজিং এই সুযোগ লুফে নিয়েছে ওয়াশিংটনকে একহাত দেখে নেয়ার জন্য।চীনের গণমাধ্যমে এই বিক্ষোভের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যে চরম বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে এবং সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব নির্মমতার অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বেশ ফলাও করে প্রচারের মাধ্যমে চীন দাবি করছে যে তাদের দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্যের নিন্দায় সরব হয়েছে যেসব দেশ, চীন এখন তাদের সঙ্গে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। চীনের কূটনীতিকরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় দেখাতে চাইছেন বেইজিং অনেক বেশি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারে।

‘কি চমৎকার একটি দৃশ্য’

গত গ্রীষ্মে যখন হংকং এর গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা হাজারে হাজারে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তখন সেটিকে ‌’কী চমৎকার সুন্দর দৃশ্য’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। এবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রকে একহাত নেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেনি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের গণবিক্ষোভের দৃশ্যকে “বিউটিফুল ল্যান্ডস্কেপ” বলে বর্ণনা করছে।

চীনের আরেকটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসের প্রধান সম্পাদক হু শিজিন লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা এখন তাদের নিজেদের ঘরের জানালা দিয়েই এই চমৎকার দৃশ্য উপভোগের সুযোগ পেয়েছেন।

বেইজিং মনে করে, হংকংয়ে বিক্ষোভের সময় ঘটা সহিংসতাকে মার্কিন রাজনীতিবিদরা ‘মহিমান্বিত’ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বেইজিং এর দৃষ্টিতে হংকং এর বিক্ষোভকারীরা যে ধরণের দাঙ্গায় লিপ্ত হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল সন্ত্রাসবাদের লক্ষণ।

গত বছরের বেশিরভাগ সময় হংকং বিক্ষোভে প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। বেইজিং মে মাসে একটি হংকং এ সাময়িকভাবে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারি করে। এটি করা হয় তিয়ানানমেন স্কোয়ারের বিক্ষোভ দমনের বার্ষিকীর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে।

আয়ানি কোকাস যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এর একজন সিনিয়র ফ্যাকাল্টি। তার মতে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন দুটি দেশই আসলে এখন খুবই অস্থিতিশীল এক পরিস্থিতিতে খাবি খাচ্ছে। এর সূত্রপাত হয়েছে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ঘটনাবলির মাধ্যমে।

“এই মূহুর্তটি চীনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে এখন স্থিতিশীলতার যে চরম অভাব দেখা দিয়েছে, এটিকে চীন তাদের জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনের কাজে ব্যবহার করতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের অভিযোগ

গণবিক্ষোভের মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অবস্থান নিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা চলছে চীনে। বেইজিং এবং হংকং এর কর্মকর্তারা বলছেন, অন্য দেশের গণবিক্ষোভে সমর্থন আর নিজ দেশের গণবিক্ষোভ নিষ্ঠুর বল প্রয়োগের যে নীতি ওয়াশিংটন নিয়েছে, সেটি তাদের ‌’ডাবল স্ট্যান্ডার্ড‌’ বা একেক জনের বেলায় একেক ধরনের নীতি উন্মোচন করে দিয়েছে।

হংকংয়ের নেতা ক্যারি ল্যাম বলেছেন, “আপনারা জানেন যুক্তরাষ্ট্রে কিরকম দাঙ্গা চলছে এবং আপনারা দেখেছেন সেখানে স্থানীয় সরকারগুলো কিভাবে এই দাঙ্গার মোকাবেলা করছে। আর হংকং এ যখন একই ধরনের দাঙ্গা হয়েছিল তখন আমরা দেখেছি তারা কি ধরনের অবস্থান গ্রহণ করেছিল।”

যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভের ব্যাপারে চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের এই মত ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বর্ণনা করছেন ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের দেশ বলে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণবিক্ষোভ চলার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো গণমাধ্যমে বেশ ফলাও করে তুলে ধরা হচ্ছে। ওয়াশিংটন সবসময় স্বাধীনতা আর গণতন্ত্রের যে সব কথা প্রচার করে, সেই কথা বলার নৈতিক অধিকার যে যুক্তরাষ্ট্রের নেই, সেটা বলতে তারা ছাড়ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের ওপর যেসব হামলা হচ্ছে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন তার উদাহারণ দিচ্ছে। সাংবাদিকদের উপর পেপার স্প্রে ব্যবহার এবং রাবার বুলেটে একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকের প্রায় অন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর তারা তুলে ধরেছে।

জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল কমিউনিকেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মারিয়া রেপনিকোভা বলছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিক্ষোভের যেরকম ব্যাপক এবং তীব্র কভারেজ দেয়া হচ্ছে সেটা অভূতপূর্ব।

“যেভাবে চীনের গণমাধ্যম এসব খবর দিচ্ছে, তা খুবই জোরালো। কারণ তারা বানিয়ে এই খবর তৈরি করছে না”, বলছেন প্রফেসর রেপনিকোভা। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যখন হংকং পুলিশের সবচাইতে শান্তিপূর্ণ আচরণ দেখানো হচ্ছে, তার পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সবচাইতে সহিংস আচরণকে, বলছেন তিনি।

চীন নিজদেশে যেভাবে গনমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেছিল সেটার জন্য তারা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। কিন্তু চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সেটা কদাচিৎ উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ যেভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর টিয়ার গ্যাস মারছে এবং বিক্ষোভ দমনের জন্য যেভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করছে, চীনের মাইক্রোব্লগিং সাইট ওয়েইবু-তে অনেকেই সেটিকে গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করছেন।

মিজ কোকাস বলছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে এবার কোন গল্প বানাতে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে যে মুক্তভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনসমাগমের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে, সেটা বোঝানোর জন্য তারা অবজেকটিভ বা বস্তুনিষ্ঠভাবে ওয়াশিংটন ডিসিতেট যা ঘটছে সেটাই তুলে ধরতে পারে।

“হংকংয়ের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেসব কথাবার্তা বলে, সেগুলো এখন ফাঁকা বুলির মতো শোনাবে যখন কিনা ওয়াশিংটন ডিসির আকাশে চক্কর দিচ্ছে সামরিক হেলিকপ্টার, ‍” বলছেন তিনি ।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদের নিন্দায় চীনা কূটনীতিকরা

চীনের কূটনীতিকরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ক্রমশ অনেক বেশি মুখর। এই সুযোগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা তুলে ধরছেন এবং এর পাশাপাশি চীনকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন।

মিজ কোকাস বলছেন, চীন এটি করছে তাদের ধারাবাহিক প্রোপাগান্ডা কৌশলের অংশ হিসেবে। তারা দেখাআতে চাইছে, কোভিড-১৯ মহামারির মোকাবেলায় নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র যখন ব্যর্থ হচ্ছে তখন সাহায্যের জন্য চীন সবার পাশে প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে।

জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য এবং পুলিশের নিষ্ঠুরতার নিন্দা করে যেসব টুইট করেছেন চীনা কূটনীতিকের টুইটারে সেগুলো শেয়ার করছেন।

চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হুয়া চুনিয়াঙ ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না’ বলে একটি টুইট করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মর্গান অর্টাগুসের একটি টুইটের স্ক্রিনশট রয়েছে। বেইজিং যেভাবে হংকং এর বিক্ষোভ সামলানোর চেষ্টা করেছিল তার সমালোচনা করা হয়েছিল মর্গান অর্টাগুসের এই টুইটে।

তবে কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে চীনে যেরকম আচরণ করা হয়, সেটাও সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। চীনের দক্ষিণাঞ্চলের নগরী গুয়াংজুতে আফ্রিকান অধিবাসীদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে এবং করোনাভাইরাসের সময় তাদেরকে জোর করে কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে। এরকম কোন আচরণের জন্য চীন এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ক্ষমা চায়নি। চীনা কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র উল্লেখ করেছে যে সেখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল।

মাইক্রোব্লগিং সাইট ওয়েইবুতে একজন লিখেছেন, ‘অনেক চীনা অন্যদেশের বর্ণবাদী আচরণের সমালোচনা করছে, কিন্তু তাদের দেশেও যখন কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে একই ধরনের বর্ণবাদী আচরণ করা হচ্ছে, তখন তারা সেটাকে মেনে নিচ্ছে।’

চীনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার উইঘুর মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিমদের বন্দী করে রাখার অভিযোগ আছে।

মার্কিন বিরোধী মনোভাব বাড়ছে

এতে কোন সন্দেহ নেই যে যুক্তরাষ্ট্রের এই গণবিক্ষোভ নিয়ে চীনের মাইক্রোব্লগিং সাইটগুলোতে এখন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সপ্তাহে এটিই ছিল সবচাইতে বেশি আলোচিত বিষয়। এসংক্রান্ত পোস্টগুলো অন্তত ২৫ বিলিয়ন বা আড়াই হাজার কোটি বার দেখেছে লোকজন।

এই গণঅসন্তোষের জন্য অনেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছে এবং হংকংয়ের বিক্ষোভের প্রতি যে তারা সমর্থন জানিয়েছিল সেটার প্রতিবাদ করেছে।

একজন লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকার সারা পৃথিবীতে সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছিল। এখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ জেগে উঠেছে। মার্কিন সরকারের এটা প্রাপ্য ছিল।”

বেইজিং এবং সেখানকার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই তত্ত্ব প্রচার করা হচ্ছে যে, হংকং এর প্রতিবাদের পেছনে ওয়াশিংটন উস্কানি দিচ্ছিল এবং এর পেছনে তাদের কালো হাত সক্রিয়।

হংকং এর বিক্ষোভ, বাণিজ্য বিরোধ এবং করোনাভাইরাস মহামারিকে ঘিরে যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে, তখন চীনে মার্কিন-বিরোধী মনোভাবও বাড়ছে।

ওয়েইবুতে হাজার-হাজার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের এই গণবিক্ষোভকে তাদের কর্মের ফল বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

তবে অনেক চীনা নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের যা ঘটছে তাতে সত্যি সত্যি দুঃখিত বলে মনে হচ্ছে।

সিএনএন এর এক সাংবাদিককে গ্রেফতারের দৃশ্য আছে, এমন একটি ভিডিওর নীচে একজন মন্তব্য করেছেন, “মানবাধিকারকে পদদলিত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের অন্তিম মূহুর্ত এটি‌।” এই পোস্টটিতে লাইক পড়েছে হাজার হাজার।

অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

“কয়েক প্রজন্ম ধরে সংগ্রামের পরও কিছুই বদলায়নি। আশা করি এবার আমরা ভালো কিছু ফল পাবো,” মন্তব্য করেছেন একজন।

অনেক চীনা নাগরিক অবশ্য তাদের দেশের দুর্বলতার ব্যাপারেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

একজন লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা রয়েছে আমি সেটাকে ঈর্ষা করি। চীনে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ সব সময় কঠোরভাবে দমন করা হয়।”

কিছু পোস্টে অবশ্য চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে তারা যেন চীনের ভেতরেও পুলিশের সহিংস আচরণ আর অবিচার একইভাবে তুলে ধরে।

তবে চীনে যারা উদারপন্থী মতামত তুলে ধরে তাদেরকে সবসময় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিন্তু একটু উদারনৈতিক চিন্তা-ভাবনার সংবাদপত্র বেইজিং নিউজ সম্প্রতি একটি মতামত প্রকাশ করেছিল যাতে মার্কিন জনগণের প্রতি সহানুভূতি এবং শ্রদ্ধার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এটি সাথে সাথে তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে, এই মতামতকে মার্কিনপন্থী বলে গালমন্দ করা হয়। এটির নীচে হাজার হাজার নেতিবাচক মন্তব্য দেখা যায়।

চীনের জনমত যাচাই করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া কখনোই একটি সঠিক জানালা নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব কথাবার্তা চলে, তা এমনিতেই কুয়োতে নিজের কথার প্রতিধ্বনি বলে বর্ণনা করা হয়, তার ওপর চীনে তথ্য প্রবাহের উপর জারি আছে কঠোর সরকারি সেন্সরশীপ।

প্রফেসর রেপনিকোভা বলেছেন, চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় অপেক্ষাকৃত প্রান্তিক এই উদারনৈতিক চিন্তাভাবনা এখন আরো বেশি প্রান্তিক হয়ে পড়বে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন সাইবার ন্যাশনালিজমেরই দাপট বাড়বে।

তার মতে চীনের সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোর জায়গা এখন দখল করে নেবে আরো বেশি আক্রমনাত্মক, উগ্র জাতীয়তাবাদীরা।-বিবিসি

LEAVE A REPLY