৫ হাজার ৫১ কোটি টাকা গ্যাস বিল বকেয়া রেখেছে ৯৭৩ টেক্সটাইল মিল

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ৯৭৩টি টেক্সটাইল কোম্পানি ৫ হাজার ৫১ কোটি টাকা গ্যাস বিল বকেয়া রেখেছে। বারবার তাগিদ দিয়েও এগুলো থেকে বিল আদায় করতে পারছে না গ্যাস বিতরণে নিয়োজিত কোম্পানিগুলো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তীব্র গ্যাস সংকট ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ব্যয়বহুল জ্বালানি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার। এর ফলে গ্যাসের দাম বেড়েছে। চলতি বছর আরেকবার বৃদ্ধির শঙ্কাও রয়েছে। এর মধ্যেই দেশের একশ্রেণির গ্রাহক মূল্যবান গ্যাস ব্যবহার করেও দীর্ঘদিন ধরে দাম পরিশোধ করছে না। বকেয়া রাখা গ্রাহকদেরকে কয়েক দফায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং এর আওতাধীন ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, এলএনজি আমদানি শুরুর পর সব পর্যায়ে সকল শ্রেণির গ্যাসের দাম বেড়েছে। আগে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন শেষে গ্যাস বিক্রি করা হতো। এতে খরচও কম ছিল। বৈদেশিক মুদ্রায় বিল পরিশোধেরও বিষয় ছিল না। তাই বড়ো গ্রাহকদের অনেকে দীর্ঘদিন গ্যাস বিল বাকি রাখলেও চাপ ছিল না। কিন্তু এলএনজি আমদানি শুরুর পর নিয়মিতই বড়ো অঙ্কের আমদানি ও পরিচালন বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় গ্যাস বিল বাকি রাখা বড়ো প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিল দ্রুত পরিশোধ করতে অনুরোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরও কেউ বকেয়া রাখলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জানায়, ৯২৮টি টেক্সটাইল মিলের কাছে কোম্পানিটি ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ মিলগুলো ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে অবস্থিত। আর চট্টগ্রামে গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ৪৯৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে পাঁচটি টেক্সটাইল মিলের কাছে।জ্বালানি বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোকে দ্রুততর সময়ের মধ্যে বকেয়া আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় বিল আদায়ে কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় নেই। এ ছাড়া মুজিববর্ষে এ খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিলখেলাপ রোধ করা তারই অংশ। হালনাগাদ বকেয়া তালিকা ধরে এখন অর্থ আদায়ে জোর দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএএম

LEAVE A REPLY