রাজাকারের তালিকা নিয়ে সংসদে তোপের মুখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

রাজাকারের তালিকা নিয়ে আজ সংসদে তোপের মুখে পড়েন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দায় অস্বীকার করে এককভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপিয়ে দিলে একের পর এক সম্পূরক প্রশ্নবানের মুখে পড়েন মন্ত্রী। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সরকারি ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে আজ মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মো. ফরিদুল হক খান দুলালের (জামালপুর-২) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবের পর এ ঘটনা ঘটে। এসময় সম্পূরক প্রশ্ন করেন সরকারি দলের সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।সরকারি দলের মেজর অব. রফিকুল ইসলাম মন্ত্রীর জবাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাজাকারের তালিকা করার প্রশ্নেই ভুল আছে। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল আমরা কোনো তালিকা তৈরি করব না। আমাদের লক্ষ্য ছিল যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তাদের যে তালিকা বিদ্যমান আছে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। সংসদীয় কমিটিতেও সেই সিদ্ধান্ত ছিল। মন্ত্রী বলেছেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় করেনি, করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি দিয়েছে- সেটা আমরা জানি না, যেহেতু মালিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তাই তারাই তো প্রকাশ করতে পারতো, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী কেনো সেটা প্রকাশ করলেন ? উনি সঠিক তালিকা প্রকাশ করতে পারেননি, উনি পারবেনও না। গত পাঁচ বছর ধরে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করতে পারেননি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, এই কথাটি সরাসরি বলা যায় না। যার কাছ থেকেই তথ্য নেন, সেই তথ্য সঠিক আছে কিনা এটা দেখার দায়িত্ব এই মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তায়। কিছু কিছু জায়গায় অসংগতির কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। প্রকৃত রাজাকাররা এই লিস্টে আসেনি।

জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ভুলভ্রান্তি ছিল বলেই দুঃখ প্রকাশ করে তালিকা প্রত্যাহার করেছি। রাজাকারের তালিকায় যাদের নাম দিয়েছে তারা সক্রিয় ছিল কিনা তা শুধু যাচাই করার ব্যাপার। সমস্ত ডকুমেন্টারি প্রমাণাদি আছে, আমরা চেক করব। সমস্যাটা হচ্ছে, তখনকার মেম্বার-চেয়ারম্যান সাহেবদের কাছে নাম চাওয়া হয়েছিল- তারা সমানে অর্থাৎ যাচাই-বাছাই না করে অনেকের নাম দিয়ে দিয়েছে হয়তো। সেজন্যই এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে আর ভুলত্রুটির পুনরাবৃত্তি না হয় সেই জন্য আমরা সকলের সহযোগিতা নিয়ে এবং সম্পূর্ণ রূপে যাচাই বাছাই করেই ভবিষ্যতে তালিকা প্রকাশ করব। 

মো. ফরিদুল হক খান দুলালের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের তিনি জানতে চান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অনুগ্রহ করিয়া বলিলেন কি রাজাকারের তালিকা তৈরিতে কারো গাফিলতি আছে কিনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার কোনো উদ্যোগ আছে কিনা?

জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, রাজাকারের তালিকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রণয়ন করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ হতে ১০ হাজার ৭৮৫ জন রাজাকার-আলবদর-আল-শামস এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের একটি তালিকা এ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। প্রাপ্ত তালিকা হুবহু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় উক্ত তালিকা প্রস্তুত করেনি সেহেতু প্রশ্ন উত্থাপিত বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

LEAVE A REPLY