মমতার সঙ্গে আরও ৫ মুখ্যমন্ত্রী, নাগরিকত্ব আইন না মানার ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতে সদ্যপ্রণীত বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন না মানার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ৬ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই গণআন্দোলনের ডাক দেন। এরপর একে একে এই আইন না মানার হুমকি দেন আরও ৫ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।পশ্চিমবঙ্গের পর দিল্লি, পাঞ্জাব, ছত্তিশগড়, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা বিজেপি সরকারের বিতর্কিত এই নাগরিকত্ব প্রদান সংক্রান্ত আইন কোনোভাবে তাদের রাজ্যে প্রয়োগ করতে দেবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন। এমনকি মহারাষ্ট্রে শিবসেনা সরকারের শরিক কংগ্রেসের এক মন্ত্রীও আইনটি রাজ্যে প্রয়োগ করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন।

তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া এবং কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলো থেকে একযোগে প্রতিবাদের ডাক ওঠায় আজ শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি একটি কেন্দ্রীয় আইন। তাই ওই আইন সব রাজ্যেই প্রযোজ্য হবে। কোনও রাজ্য সরকারের তা আটকানোর অধিকার নেই।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএবি) পশ্চিমবঙ্গে হতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এর বিরুদ্ধে নিজে মাঠে নামার ঘোষণা ছাড়াও বিজেপি বাদে অন্য সব রাজনৈতিক দলকে এর প্রতিবাদে গণআন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

মমতার মতো বাকি রাজ্যগুলোরও অন্য রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরাও একই সূরে কথা বলেছেন। দিল্লিতে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পাঞ্জাবে রাজ্যে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংও একই নাগরকিত্ব আইন তাদের রাজ্যে প্রয়োগ হতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া, ছত্তিশগড়ে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলীয় মুখমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশেও রাজ্যে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস। দলটির মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের সরকারও আইনটি না মানার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া কেরালায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্ক্সবাদী) মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও এমন কথাই বলেছেন।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নীতিগতভাবে কোনও রাজ্যের পক্ষে কেন্দ্রীয় আইনের প্রয়োগ যে আটকানো সম্ভব নয় তা স্বীকার করে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ। দলের অবস্থান নিয়ে তৃণমূল নেতাদের একাংশের ব্যাখ্যা, প্রশ্নটি কেন্দ্রীয় আইন বা রাজ্য আইনের নয়।

তারা বলছেন, মূল বিষয়টি হল রাজনৈতিক ও সামাজিক জনমত তৈরি করে গণআন্দোলনের আবহ তৈরি করা। যাতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এর প্রতিবাদে পথে নামে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় আইনকে এভাবে উপেক্ষা করা বা আটকানো যায় না।

সরকার যুক্তি দিচ্ছে, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে এমন যেকোনও পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার কাঠামোর পরিপন্থী। রাজ্য যদি কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগে সমস্যার সৃষ্টি করে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে প্রথমে সংবিধানের ৩৫৫ ও পরে ৩৫৬ ধারা পর্যন্ত প্রয়োগ করার ক্ষমতা আছে কেন্দ্রীয় সরকারের।

তবে পশ্চিমবঙ্গকে অনুসরণ করে অন্যান্য রাজ্যগুরোর এগিয়ে আসায় উৎসাহিত তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলটি বলছে, যদি একা পশ্চিমবঙ্গ ওই আইনের বিরোধিতায় সরব থাকত, তাহলে কেন্দ্রের পক্ষে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া সুবিধাজনক হত। এতগুলো রাজ্যকে সংবিধানের ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারার ভয় দেখানো কঠিন।

অমুসলিমদের নাগরিকত্ব প্রদানে পাস হওয়া আইনটি নিয়ে উত্তাল ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয় রাজ্য। নিহত হয়েছেন পাঁচজন। কারফিউ জারিসহ মোতায়েন করা হয়েছে সেনা। সফল বাতিল করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশের দুই মন্ত্রী। সর্বশেষ শিলং সফর বাতিল করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

LEAVE A REPLY