হোয়াইটওয়াশ থেকে ২ উইকেট দূরে আফ্রিকা

স্বাগতিক ভারতের কাছে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা [ছবি: ক্রিকবাজ]

স্বাগতিক ভারতের কাছে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা। রাঁচিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ জিততে ভারতের প্রয়োজন আর মাত্র ২টি উইকেট। তবেই ইনিংস ব্যবধানে প্রোটিয়াদের হারাতে পারবে টিম ইন্ডিয়া।

ভারতের ৯ উইকেটে ৪৯৭ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে ফলো অনে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলো-অনে পড়ে তৃতীয় দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৩২ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংস হার এড়াতে ম্যাচের বাকি দুই দিনে ২ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ২০৩ রান করতে হবে প্রোটিয়াদের।

রোহিত শর্মার ২১২ ও আজিঙ্কা রাহানের ১১৫ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪৯৭ রান করে ভারত। জবাবে ২ উইকেটে ৯ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। এ অবস্থায় দ্বিতীয় দিন শেষে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৮৮ রানে পিছিয়ে ছিলো সফরকারীরা। ফলো-অন এড়াতে আরও ২৮৮ রান করতে হতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

তৃতীয় দিনের শুরুতেই পঞ্চম বলেই উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১ রান নিয়ে শুরু করা অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিসকে বোল্ড করেন ভারতের পেসার উমেশ যাদব। এতে দলীয় ১৬ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। এ অবস্থায় দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন জুবায়ের হামজা ও তেম্বা বাভুমা। ভারতীয় বোলারদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন তারা। এতে বড় হতে থাকে জুটিটি। আর এই জুটির কল্যাণেই শতরানের কোটা স্পর্শ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মধ্যে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন জুবায়ের হামজা।

অবশ্য হাফ-সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি হামজা। ভারতের স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৯ বলে ৬২ রান করেন তিনি। হামজা-বাভুমা জুটি ৯১ রান যোগ করে।

দলীয় ১০৭ রানে হামজার বিদায়ের পরের ওভারেই আউট হন বাভুমা। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা ভারতের বাঁ-হাতি স্পিনার শাহবাজ নাদিমের বলে উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন ৫টি বাউন্ডারিতে ৭২ বলে ৩২ রান করা বাভুমা।

এরপর দলীয় ১৩০ রানের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার আরও ৩ উইকেট তুলে নেয় ভারতের বোলাররা। ফলে দেড়শ নিচে গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় পড়ে প্রোটিয়ারা। কিন্তু সেটি হতে দেননি সাত নম্বরে নামা জর্জ লিন্ডে। টেল-এন্ডারদের নিয়ে দলের স্কোর সামনের দিকে টেনে নিয়ে গেছেন তিনি। তবে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে লিন্ডেকে তুলে নেন ভারতের পেসার উমেশ যাদব। তার বিদায়ের পরের ওভারেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬২ রানে শেষ হয় প্রোটিয়াদের ইনিংস। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮১ বলে ৩৭ রান করেন লিন্ডে। ভারতের পক্ষে উমেশ ৩টি, সামি-নাদিম-জাদেজা ২টি করে উইকেট নেন।

১৬২ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হওয়ায়, প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করায় ভারত। দ্বিতীয় টেস্টেও প্রোটিয়াদের ফলো-অন করিয়েছিলো বিরাট কোহলির দল। ফলো-অনে পড়ে আজ ম্যাচের তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে মহা বিপদেই পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্কোর বোর্ডে ৩৬ রান উঠতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে প্রোটিয়ারা। ভারতের দুই পেসার উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ সামির পেস তোপে অসহায়ভাবে আউট হন দক্ষিণ আফ্রিকার টপ-অর্ডারও ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার কুইন্টন ডি কক ৫ ও হেনরিচ ক্লাসেন ৫ রান করে উমেশের শিকার হন। হামজা শুন্য, অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস ৪ ও বাভুমা শুন্য রান করে সামির বলে আউট হন।

সতীর্থদের যাওয়া আসার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন আরেক ওপেনার ডিন এলগার। কিন্তু নবম ওভারের তৃতীয় বলে ভারতের পেসার উমেশের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে আহত অবসর নিয়ে মাঠ ছাড়েন এলগার।

৫ উইকেট পতনের পর ভারতীয় বোলারদের সামনে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন লিন্ডে ও ড্যান পিট। ধীরে ধীরে বড় জুটি গড়তে থাকেন তারা। তবে তাদের বেশি দূর যেতে দেননি নাদিম। বোলার হিসেবে নয়, ফিল্ডার হিসেবে লিন্ডেকে রান আউট করেন নাদিম। ৫টি চারে ২৭ রান করেন নাদিম।

লিন্ডের সঙ্গী পিটকে তুলে নিয়ে ভারতকে আজই জয়ের স্বপ্ন দেখান জাদেজা। বোল্ড হবার আগে ২৩ রান করেন পিট। দলীয় ৯৮ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে পিটকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আজই ভারতের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কেননা তখনও দিনের অন্তত ৫০ বল ডেলিভারি বাকী ছিলো। হাতে উইকেট ছিলো ৩টি। কিন্তু এই অবস্থায় ভারতের স্বপ্নের পথে কাটা হয়ে দাঁড়ান তিউনিস ডি ব্রুইন ও কাগিসো রাবাদা।

মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে যাওয়ায় এলগারের পরিবর্তে কনকাশন সাব হিসেবে ব্যাটিং করতে নামেন ব্রুইন। রাবাদাকে নিয়ে দিনের খেলা শেষ করার পথেই হাটছিলেন ব্রুইন। তবে ১২ রান করা রাবাদাকে শিকার করে এ ম্যাচে প্রথম উইকেট শিকার করেন ভারতের স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন।

রাবাদার আউটে আবারো জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ভারত। দিনের শেষ ১৯ বলে ২ উইকেট তুলে নেয়ার সমীকরণে পড়েন ভারতের বোলাররা। কিন্তু এনরিখ নর্টিকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন থেকে দিনের বাকী সময় পার করে দেন ব্রুইন। ভারতের জয় দীর্ঘায়িত হয়, আর দক্ষিণ আফ্রিকার হার চতুর্থদিনের গড়ায়। ব্রুইন ৩০ ও নর্টি ৫ রানে অপরাজিত আছেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে অপেক্ষায় আছেন লুঙ্গি এনগিডি। ভারতের সামি ৩, উমেশ ২টি, জাদেজা-অশ্বিন ১টি করে উইকেট নেন।

source:ইত্তেফাক/এমআর

LEAVE A REPLY