ম্যাচ ফি নিয়ে আপত্তি সাকিবের

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বেতন কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। যদিও একুশতম জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) এবারের আসরে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের খেলা হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে এটা খুবই নগণ্য। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট পান। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে দেখি, অবস্থা প্রতি বছরই একই রকম। এমনকি বেতন কমানোও হয়। বিপিএল ও ডিপিএল সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
সাকিব আরো বলেন, আমার সবসময় মনে হয় যে, আমাদের দেশে ক্রিকেটারদের দমন করে রাখা হয়। এটা ঠিক না। সবারই সমান সুযোগ আছে। যে খেলোয়াড় যে পরিমাণ আয় করার যোগ্য তাকে তা আয় করার সুযোগ দেয়া উচিত। যদি কোনো দল খেলোয়াড়কে ওই দামে না নিতে চায় তাহলে বিষয়টি খেলোয়াড় দেখবে। কিন্তু খেলোয়াড়কে তার দাম ঠিক করার স্বাধীনতা না দেয়াটা ঠিক না।

তিনি বলেন, যদি নীতিনির্ধারকরা মনে না করেন যে, আমাদের সঙ্গে তাদের বসা প্রয়োজন। তাহলে আমাদের বেশি কিছু করার নেই। আমি মনে করি, ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করলে ক্রিকেটারদের উন্নতিতে সাহায্য করবে। কিন্তু আমি খুশি যে, তারা ক্রিকেটের উন্নতির প্রতি গুরুত্ব দেয়।

একুশতম এনসিএলের এবারের আসরে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের খেলা হচ্ছে না নিশ্চিতই এটা। কেননা ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর এনসিএল শুরু হয়েছে ১০ অক্টোবর থেকে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা। মুশফিক-রিয়াদরা খেললেও ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অংশ নেয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন সাকিব। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জাতীয় লিগে সাকিবের সম্পর্কে বলেন, তার বিশ্রামের ব্যাপার আছে। সে জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলার পরপরই ওখানে গিয়েছে। এ ছাড়া ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ভারত সফরের ক্যাম্প।

জাতীয় দলের যারা টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলবেন তাদের জাতীয় লিগের দুটি ম্যাচ খেলার অনুমতি দিয়েছিল বোর্ড। তবে সাকিবের বিষয়টি নির্ভরশীল ছিল কোচের ওপর। এ ছাড়া আসন্ন বঙ্গবন্ধু

বিপিএলে প্রতি দলে একজন করে লেগস্পিনার এবং তাদের চার ওভার বোলিং বাধ্যতামূলক করা নিয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাকিব। বিপিএলের মতো আন্তর্জাতিকমানের একটি টুর্নামেন্টকে খেলোয়াড় গড়ার মঞ্চ বানানোর যৌক্তিকতা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি।

বাংলাদেশ দলে একজন ভালো মানের লেগস্পিনারের হাহাকার বহুদিনের। টুকটাক এক দুজন আসেন, তারাও বেশিদিন টিকতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে লেগস্পিনার না পাওয়াতেই তাড়াহুড়ো করে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে বোর্ড, উপলব্ধি সাকিবের। বিশ^সেরা অলরাউন্ডারের ভাষায়, অনেক বছর ধরে আমরা সিনিয়র দলে একজন লেগস্পিনার পাচ্ছি না। তবে হঠাৎই নেয়া এমন সিদ্ধান্ত কিছুটা বিস্ময়করই। তবে আমি এটাও মনে করছি, বোর্ড ভালো মনে করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাকিবের মতে, আমার মনে হয় লেগস্পিনারদের আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিকতা তৈরি করতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশি ওভার বল করা উচিত। বিপিএল আন্তর্জাতিকমানের একটি টুর্নামেন্ট, যেখানে আপনি এমন পরিস্থিতিতে পড়বেন, যেমনটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়। এখানে বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে থাকবেন আপনি। খেলোয়াড় তৈরি করার জায়গা তো এটা নয়।

ওদিকে বঙ্গবন্ধুর নামে আয়োজিত বিপিএলেও আগের তুলনায় পারিশ্রমিক কমছে ক্রিকেটাদের। বিসিবি সভাপতি পাপন তেমনটাই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা যেহেতু বিসিবি নিজেরা করছে, তাই আগের মতো পারিশ্রমিক হবে না, এটাই স্বাভাবিক। তবে একেবারে খারাপও হবে না।

প্রসঙ্গত, আগের আসরগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে স্থানীয় ক্রিকেটারদের অনেকেই বিসিবির বেঁধে দেয়া মূল্যের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। সাকিব পেয়েছিলেন কোটি টাকার মতো। মাশরাফি, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরও পারিশ্রমিক ছিল এর কাছাকাছি।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY