ডার্ক ওয়েবে শিশুপর্নো, ১৩ দেশে গ্রেপ্তার ৩৩৭

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের লেনদেনের সূত্র ধরে ‘ডার্ক ওয়েবে শিশুপর্নোর অন্যতম বড় বাজারের’ সন্ধান পেয়ে তা উচ্ছেদের পর বিভিন্ন দেশে তিন শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘ওয়েলকাম টু ভিডিও’ নামে ওই পর্নোসাইটে শিশু নিপীড়নের দুই লাখের বেশি ভিডিও রয়েছে, যেগুলো সব মিলিয়ে এক লাখের বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে। এই পর্নোসাইট চালানোর দায়ে ৯ ধরনের অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক জং উ সনের (২৩) বিরুদ্ধে গত বুধবার বিচার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। সন কোরিয়াতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২৫ বছরের দণ্ড ভোগ করছেন। এসব পর্নো ভিডিওর সন্দেহভাজন ব্যবহারকারী হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৩৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স। এরা দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চেক রিপাবলিক এবং কানাডাসহ মোট ১৩টি দেশের অধিবাসী। এক শিশু যৌন নিপীড়নকারীর বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে গত বছর ডার্ক ওয়েবে এই সাইটের সন্ধান পেয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জার্মানির অনুসন্ধানী সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্স তিন বছর কাজ করার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনে লেনদেনের সূত্র ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই ডার্কনেটের সার্ভার শনাক্ত করে। পরে সেখানকার পুলিশের সহায়তায় এই সার্ভার জব্দ করে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় আট টেরাবাইটের সার্ভারের কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, এতে আড়াই লাখের বেশি ভিডিও আছে, যার ৪৫ শতাংশই নতুন অর্থাৎ ওয়েবে সেগুলোর অস্তিত্ব এর আগে কখনো ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সাইটে এক বছর থেকে শুরু করে নানা বয়সী শিশুদের নিয়ে তৈরি যৌন নিপীড়নের ভিডিও আপলোড করা ছিল। সেখানে শিশুদের ছাড়া অন্য কোনো পর্নো ভিডিও আপলোড না করতেও নিষেধ করা হয়। কীভাবে এসব ভিডিও ব্যবহারে বিটকয়েন ব্যবহার করা হতো তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। শুধু শিশুদের ব্যবহার করে টাকা কামানোর জন্য এভাবে ডার্কনেটের ব্যবহার এই প্রথম। ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে ভিডিওগুলো বিক্রির প্রস্তাব দিতে ‘ওয়েলকাম টু ভিডিও’ নামে এই সাইটটি নির্মাণ হয়। এই সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে একটি করে স্বতন্ত্র বিটকয়েন অ্যাড্রেস দেয়া হতো। সার্ভার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওয়েবসাইটটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমপক্ষে ১০ লাখ। যৌথ টাস্কফোর্সের এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও যুক্তরাজ্যে প্রায় ২৩ শিশুকে নির্যাতনমূলক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করা হয়। ভিডিওগুলোতে দৃশ্যমান অন্য শিশুদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত আছে।
গত বছর ইংল্যান্ডে শিশুর নিপীড়ক ম্যাথু ফ্যাল্ডারকে আটকের পর তদন্ত করতে গিয়ে বিষয়টি উন্মোচিত হয়। ডার্ক ওয়েবে শিশু নিপীড়ন বিষয়ে পরামর্শ ও ছবি ছড়ানোর দায়ে তার ২৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে যুক্তরাজ্যে এর মধ্যে সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা নিকি হল্যান্ড বলেন, ডার্ক ওয়েবে শিশু যৌন অপরাধীরা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। নিজেদের যত গোপন তারা ভাবেন, ততটা নন, আবার যতটা নিরাপদ ভাবেন ততটাও তারা নন।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY