আন্দোলনের ইতি টানলো বুয়েট শিক্ষার্থীরা

বুয়েট শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন

আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান মাঠ পর্যায়ের আন্দোলনের ইতি টেনেছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তবে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন স্থগিত করলেও তাদের দাবিসমূহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেছেন তারা।

একইসাথে যতদিন পর্যন্ত না চার্জশিটে অভিযুক্ত সকলকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করা হয় ততদিন ক্লাস পরীক্ষাসহ যে কোন ধরণের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তারা খুনিদের সাথে একই ক্যাম্পাস ভাগাভাগি করতে পারবেন না বলে স্রেফ জানিয়ে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুয়েট শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বুয়েট শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান সায়েম।

এসময় শিক্ষার্থীরা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বুয়েট প্রশাসনের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বুয়েট প্রশাসন চলমান তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধনের মাধ্যমে যে স্বদিচ্ছা দেখিয়েছে আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলনের সমাপ্তি টানছি। তবে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন স্থগিত করলেও আমাদের দাবিসমূহ বুয়েট প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে কি না সে বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখব।

আবরারের লাশকে নিয়ে যারা অপ-রাজনীতি করছেন তাদের থেকে সাবধান থাকতে সকলকে আহ্বান করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আবরারের লাশকে পর্দা হিসেবে ব্যবহার করে অনেক সংগঠন নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে। তারা এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই এদের সাথে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এসকল সংগঠনের কথায় কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) বুয়েট ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দিতে সকল সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একত্রে গণশপথ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা৷

এ সময় আবরার হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশেষ নজর রাখায় বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY