শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন

ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় শিমুলিয়া ঘাটে পাঁচ শতাধিক যানবাহন এখন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। তীব্র স্রোতে ও বাতাসের কারণে নৌপথে ধীর গতিতে চলছে ফেরি। এছাড়া ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে গেছে। আবার কোরবানির গরু বহনের কারণে ট্রাকের চাপও বেড়েছে। অপেক্ষারত যানের মধ্যে ট্রাকের সংখ্যাই প্রায় সাড়ে তিন শ’।

শিমুলিয়া বিআইডব্লিউটিসির এজিএম খন্দকার শাহ নেওয়াজ খালেদ জানান, প্রতিদিন বাড়তি প্রায় ৩/৪ শত কোরবানির ঈদের গরুর ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান আসছে ঢাকার দিকে। ট্রাক খালি করে আবারও কোরবানির গরু আনতে ওপারে চলে যাচ্ছে। তার সাথে নদীতে তীব্র স্রোত ও বাতাস রয়েছে। আবার ৩ নম্বর ঘাট সাড়ে ৫ ঘ›ণ্টা বন্ধ থাকায় ঘাটে যানবহনের জট সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ফেরিগুলো পদ্মার বড় বড় আছঁড়ে পড়া ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে চলাচল করেছে। এর ফলে নির্ধারিত এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের পরিবর্তে ফেরিগুলো পদ্মা পাড়ি দিতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।
পদ্মায় পানি বাড়ার সাথে স্রোতের তীব্রতাও বেড়ে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে নৌ-রুটে ফেরি চলাচলে বিঘিন্ত হচ্ছে।

এদিকে গতকাল সোমবার রাতে শিমুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৩ নম্বর ঘাট বিকল হয়ে যায়। ঘাটের পন্টুনের প্লেড সরে গিয়ে পানি উঠে যায়। এতে সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এতে নাইট কোচসহ বহু যান আটকা পড়ে। তবে মেরামতের পর এখন এই ঘাট দিয়ে পরাপার চলছে। অপরদিকে যাত্রীরা দ্রুত গন্তবে যাওয়ার জন্য লঞ্চ এবং স্পীড বোটে করেও পরাপার হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপর মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, ঈদ ঘরমুখো যাত্রীদের নৌ-রুট নির্বিঘ্নে পারাপারের লক্ষ্যে শিমুলিয়া ফেরিঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘাট এলাকায় সিসি ক্যামেরাসহ ওয়াচ টাওয়ার এবং অস্থায়ী অভিযোগ কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ২৫০ জন পুলিশ সদস্য ছাড়াও র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার, কমিউনিটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া যানজট এড়াতে বুধবার থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত তিন দিন নৌরুটে সকল পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। এই তিন দিন ফেরিঘাট থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে শ্রীনগরের ছনবাড়ী এবং আরো দূরের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে আটকে দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY