১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে – অতঃপর

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ১৮ মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর রোজ রবিবার থেকে খুলে দেওয়া হয় স্কুল কলেজ। এর মধ্যে দিয়ে প্রাথমিক , মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সশরীরে শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করার সুযোগ তৈরী হয়েছে।
স্কুল কলেজ খোলায় শিক্ষার্থীদের মাঝেও এক ধরণের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ -উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
করোনার কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত একাধিকবার শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও
করোনা সংক্রমণের কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
অবশেষে ১২ সেপ্টেম্বর রোজ রবিবার থেকে খুলে দেওয়া হয় স্কুল কলেজ, এখানে উল্লেখ করবো খুলনা মহানগরীর সনামধন্য বিদ্যা পিঠ ‘সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ‘ এর কথা শিক্ষার্থীরা
শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী দূরত্ব রেখে ,মুখে মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাপমাত্রা মেপে এবং স্যানেটাইযার ব্যবহার করা হয়। বিদ্যালয়ের ভিতরে সারিবদ্ধ ভাবে বেসিন বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার জন্য।

May be an image of 2 people, people sitting, people standing and outdoors


ছাত্রীদেরকে দূরত্ব বজায় রেখে শ্রেণীকক্ষে বসানো হয়। যেহেতু দীর্ঘ ১৮ মাস বিদ্যালয় বন্ধ ছিল তাই যারা নুতন ভর্তি হয়ে ছিল অর্থাৎ তৃতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ,তাদের আনন্দের জন্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার নবীনবরণ এর আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে ছাত্রীরা কিছুটা হলেও আনন্দের ছটা অনুভব করে।
গার্লস গাইড ,হলদে পাখি , রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট এবং বিদ্যালয়ের বিশেষ বাজন দলের সহায়তায় অনুষ্ঠানটি
সুন্দর হয়ে ওঠে।

May be an image of one or more people, people standing and balloon




সবাই সামাজিক দূরত্ব ও নিয়ম কানুন মেনে চলে।
আশা করবো করোনা মোকাবেলায় এ জাতীয় নিয়ম কানুন আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিক মেনে চলবো।

May be an image of 9 people and people standing


এদিকে কোনো কোনো মহল মনে করছেন পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া উচিত ,অপরদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, এখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পরিস্থিতি হয়নি। তবে করোনা মহামারি বড় আকার ধারণ করলে আবারও বন্ধ করা হবে।

আজ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মহামারি এখনও কিন্তু চলমান। যদিও শনাক্তের হার পাঁচের নিচে নেমে এসেছে, তারপরও কিন্তু মহামারি চলমান সারা দুনিয়ায়। কাজেই আমাদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। কেউ না কেউ অসুস্থ হতেই পারে। বাড়িতে হতে পারে, যাতায়াতের পথে হতে পারে; এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও হতে পারে। সেটি যেন না ঘটে এবং কোথাও ঘটনা ঘটলে আমরা যেন ব্যবস্থা নিতে পারি এ বিষয়ে সচেতন এবং দৃষ্টি রাখছি। আমরা কোনো অভিযোগ বা খবর পেলে স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল সার্জেন্টের অফিস ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেব।

তিনি বলেন, আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো অতিমারি শেষ হয়নি। যে কেউ যে কোনো সময় করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। বড় ধরনের মহামারি দেখা দিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি হয় আমরা ব্যবস্থা নেব। এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের সংবাদ পাওয়া গেছে তার মধ্যে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, এ বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর করোনা আক্রান্তের বিষয়ে দীপু মনি বলেন, আমাদের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে সমস্যা হয়েছে, বিশেষ করে মানিকগঞ্জের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারা গেছে। আমরা সেই কেসটি নিয়ে সেখানকার সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। স্কুল খোলার পর সেই শিক্ষার্থী মাত্র একবার ক্লাসে এসেছিল। তার ৬-৭ দিন পর আক্রান্তের খবর পাওয়া যায় এবং সে মারা যায়।

ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

LEAVE A REPLY