থিওপিয়া-টিগ্রে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের শিকার

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলএর পরিস্থিতি বিশ্লেষণকরে দেখার পর জাতিসংঘের মানবিক ত্রান সাহাহ্য বিষয়ক প্রধান মার্ক লোকক বলেছেন ওই অঞ্চলে এখন দুর্ভিক্ষ চলছে। জাতিসংঘের সহযোগিতা ও বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে যুদ্ধবিদ্ধস্ত টিগ্রে অঞ্চলে সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ গুরুতর সঙ্কটের মধ্যে বাস করছে। ওই অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে ১৭ লাখ মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে।এধরনের বিশ্লেষণকে বলা হয় ইন্টিগ্রেটেড ফেজ ক্লাসিফিকেশন বা আইপিসি। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মিলে এই সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। এই আইপিসি পর্যালোচনায় দেখা গেছে টিগ্রে অঞ্চলে খাদ্য সঙ্কট “বিপর্যয়কর” পরিস্থিতিতে চলে গেছে যার ফলে ক্ষুধা ও মৃত্যু বেড়ে গেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইথিওপিয়ার টিগ্রে অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে চার লাখের বেশি মানুষ বিপদগ্রস্ত রয়েছে। দুর্ভিক্ষের ফলে অন্তত ৩৩ হাজার শিশু মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এ ছাড়া আট মাসের এই সংঘাতে আরও ১৮ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে ইথিওপিয়ায়। প্রায় ৫২ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। গত বছরের নভেম্বরে ইথিওপিয়ার সরকার টিগ্রে অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া টিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সরকারকে সহযোগিতা দিতে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ইরিত্রিয়াও৷ টিগ্রের পশ্চিমে বিচ্ছিন্ন কাফতা হোমেরা অঞ্চলের লোকজন বলেছে যে তারা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। “খাওয়ার জন্য আমাদের কিছু নেই,”একথা বলেছেন এক ব্যক্তি। তিনি জানান সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে তাদের ফসল এবং গবাদি পশু লুট হয়ে গেছে। তিনি জানান, যেসব মিলিশিয়া সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে তাদের কাছ থেকে ত্রাণ-সাহায্য নিতেও তাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। “যে সামান্য কিছু শস্য আমরা লুকিয়ে রাখতে পেরেছিলাম, সেগুলো খাচ্ছি, কিন্তু এখন আর কিছু নেই,” বলেন একজন কৃষক। “কেউ আমাদের কোনো ত্রাণ-সাহায্য দেয়নি। প্রায় সবাই এখন মৃত্যুর মুখে- ক্ষুধার কারণে আমাদের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পরিস্থিতি খুবই মারাত্মক। মৃত্যু আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আমাদের প্রত্যেকের মুখে আপনি ক্ষুধা দেখতে পাবেন।” স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা ত্রাণ-সাহায্য নিয়ে গাড়ি যেতে দেখেছেন, কিন্তু কেউ তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়ার কথা ভাবেনি। এর আগে ১৯৮৪ সালে টিগ্রে এবং প্রতিবেশী ওল্লো প্রদেশে খরা ও যুদ্ধের কারণে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়েছিল যাতে ছয় থেকে দশ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, মে মাস পর্যন্ত ৫৫ লাখ মানুষ খাদ্য সঙ্কটে ভুগেছে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে।এরকম পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সঙ্কট মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছ। তবে টিগ্রে অঞ্চলের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY