শোবিজ কাঁপিয়ে , ঢাকার আদালতে জেমস|

ফারুক মহফুজ আনাম (মঞ্চ নাম জেমস হিসাবেই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়; জন্ম: ২ অক্টোবর ১৯৬৪), একজন বাংলাদেশী গায়ক-গীতিকার, গিটারিস্ট, সুরকারঅভিনেতা এবং একজন বলিউড নেপথ্য গায়ক। তিনি রক ব্যান্ড “ফিলিংস” (বর্তমানে নগর বাউল হিসাবে পরিচিত) এর প্রধান গায়ক, গীতিকার ও গিটারিস্ট, যা তিনি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। জেমস নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন, এবং বেড়ে উঠেন চট্টগ্রাম শহরে।\

জেমস ১৯৯০ এর দশকে ফিলিংসের মুখ্যব্যক্তি হিসাবে মূলধারার খ্যাতিতে উঠে এসেছিলেন, যা “বিগ থ্রি অফ রক” এর মধ্যে অন্যতম, যারা এলআরবি এবং অর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশে হার্ড রক সংগীত বিকাশ ও জনপ্রিয় করার জন্য প্রশংসিত। ফিলিংসকে বাংলাদেশের সাইকেডেলিক রক এর প্রবর্তক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাকে প্রায়শই “গুরু” নামে অভিহিত করা হয়।

তবে এই তারকা বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে মামলার করতে আদালতে এসে চলে গেলেন। রবিবার মামলা করতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলার আবেদন করতে আসেন। কিন্তু আদালতের পরামর্শে মামলা না করেই চলে যান তিনি।

জানা যায়, জেমসের অনুমতি ছাড়া তার গান নিজেদের নামে কপিরাইট করে রেখেছে বাংলালিংক। এ বিষয়ে জানার পর জেমস আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার আবেদন করেন।

নিজের সৃজনশীল কাজের জন্য দেশের ‘মহাতারকা’ মাহফুজ আনাম জেমসকেও আদালতে যেতে হলো- এটা মানতেই পারছেন না ভক্তরা। কেন জেমসকে আদালতে যেতে হচ্ছে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেন, ভক্ত ও সংশ্লিষ্টরা। 

সংবাদকর্মী ও সংগীতপ্রেমী নাজমুস সাকিব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রকলেজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু জিন্দা থাকতে কারো সাথে ঝামেলায় যাননি।
জেমস ভাই জিন্দা আছেন। কপিরাইট ইস্যুতে আদালত চত্বরে যেতে হলো তাকে। এমন না যে তাদের সাথে যারা কাজ করেছেন (লিরিসিস্ট, কম্পোজার, ব্যান্ডের সদস্য) তারা খুব ভালো আছেন। নিজেদের পিক টাইমে তারা এদের দিকে মনযোগী হয়েছেন কিনা প্রশ্নসাপেক্ষ।
অথচ এই মানুষগুলো তাদের ব্রান্ড হতে সাহায্য করেছেন। কেউ কি একা বড় হতে পারে!’

সাকিব বলেন, তারপরেও জেমস ভাইয়ের আদালতে যাওয়ার ছবি দেখে মন ভিজে উঠলো। এরকম দিন কখনো দেখতে চাইনি। অন্তত জেমস ভাইয়ের ক্ষেত্রে নয়।  অথচ সেই কবে অংশু ভাইয়ের লিরিক-সুরে তিনি গেয়েছিলেন, ‘আদালতে দেখা হবে, কথা হবে তখন’। সেই গান এতদিন পর এসে সত্য হয়ে উঠবে ভাবিনি।’ 

সঙ্গীতশিল্পী প্রীতম বুধবার জেমসের আদালতে যাওয়ার একটি খবর ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘কপিরাইট অধিকার নিয়ে মামলা করার সময় আমার পাশে তো কোন শিল্পী ছিলেন না। এবার না হয় জেমস ভাই এর পাশে দাঁড়ান। একজন আইয়ুব বাচ্চু যে অভিমান নিয়ে চলে গেলেন জেমস ভাইকে সেই অভিমান থেকে বাঁচান।’

জেমস বুধবার সকালে আদালতে এলেও বেলা ১টায় তিনি আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হয়ে মামলা না করেই চলে যান। এ সময় মামলার বিষয়ে জানতে চাইলেও তিনি সাংবাদিকদের কোনো কথা বলেননি। তবে এ বিষয়ে আইনজীবীর সাথে কথা বলতে বলেন।

জেমসের আদালতে যাওয়া নিয়ে বেশ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার মিডিয়াপাড়াতেও বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ছিল গুঞ্জন। তবে সবখানে একটি কথাই ঘুরেফিরে আসছিল তা হলো ‘কপিরাইট।’ কপিরাইট বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জোরালো কথা উঠছে। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাপস কুমার পাল বলেন, জেমস আদালতে বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে মামলার আবেদন করেন। শুনানিতে বিচারক গুলশান থানায় গিয়ে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। তবে থানায় মামলা না নিলে আদালতে আসতে বলেন।

নগর বাউল জেমসের আইনজীবী তাপস কুমার বলেন, বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে মামলার আবেদন করতে আসেন জেমস। আদালতের পরামর্শে তিনি মামলা না করে ফিরে যান।

LEAVE A REPLY