রাজধানীতে ঠেকানো যাচ্ছে না হিজড়াদের দৌরাত্ম

গণপরিবহনে হিজড়াদের চাঁদাবাজি

রাজধানীতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর উপদ্রব বেড়েছে। প্রতিদিন সাহায্যের নামে অফিসগামী মানুষদের হয়রানি করছে তারা। শুধু অফিসগামী মানুষ নন, বিভিন্ন দোকান, অফিস ও শোরুমে তাদের চাঁদাবাজি লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠছে।

সাধারণ মানুষ তাদের এই কর্মকাণ্ডকে ‘যন্ত্রণা’ বলেই উল্লেখ করছেন। তারা মনে করেন, সাহায্য নেয়ার নামে তারা এক প্রকার চাঁদাবাজিই করছে। এতে পরিবেশের স্বাভাবিকতা নষ্ট করছে, সাধারণ মানুষকে হতে হচ্ছে লাঞ্ছিত।

বিশেষ করে রাজধানীর সাতরাস্তা, তিব্বত, মহাখালী, উত্তরা, আসাদগেট, শ্যামলী রুটে চলাচলকারীরা তাদের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

দুদিন আগে অফিসের পথে রওনা হয়েছিলেন আরিফ। পথিমধ্যে ‘স্কাইলাইন’ নামক একটি বাসে উঠে হিজড়া হাততালি দিয়ে চাঁদা নেয়া শুরু করেন। সেসময় তারা শুধু হাততালি নয়, হাতাহাতিও করেন। আরিফের কাছে টাকা না পাওয়ায় তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে খুবই বিব্রত পরিস্থিতে পড়েন তিনি।

যাত্রাপথে এসব ভোগান্তির অভিযোগ সাধারণ মানুষেরা জানানোর জায়গাও পাচ্ছেন না। অফিস শেষে ঘর্মক্লান্ত হয়ে ওদের হয়রানি তাদের জীবনকে আরও হাঁপিয়ে তুলছে। এমব ভোগান্তির কথা কয়েকজন জানিয়েছেন ভোরের কাগজকে-

রাজধানীতে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে কিছুদিন আগে ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, মানবিকখাতিরে তারা টাকা চাইতেই পারে। কিন্তু তারা যা করছে রীতিমতো ছিনতাই। এসবের প্রতিবাদ করেছিলাম বলে, তারা দলবেঁধে এসে আমার শার্টের কলার ধরে। আমি খুবই ক্ষিপ্ত হয়ে যাই। সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে কথা না বলায় এমন করার সাহস পায় ওরা।

ওহাব ওহী নামে এক ভুক্তভোগী জানান, আমার পাশেই স্ত্রী বসা। খুব সকালে আমলা শ্যামলীর টিবি হাসপাতাল থেকে ফিরছিলাম। কয়েকজন হিজড়া এসে আমার শরীর ঘেঁষে দাঁড়ায়। আবেদনের ভঙ্গিতে জোর করে টাকা দাবি করে। যা খুবই বিরক্তিকর, কখনও কখনও তা সংঘর্ষেও রুপ নেয়। এসব ভোগান্তি থেকে আমরা মুক্তি চাই।

রাজধানীর মিরপুর থেকে মৌচাকে বাসে নিয়মিত যাতায়াতকারী মেহেদি বললেন, ওরা খুবই নাছোড়বান্দা। টাকা না নিয়ে ছাড়েই না। কখনও কখনও ওরা বিবস্ত্র হওয়ার হুমকিও দেখায়, যা খুবই অশোভনীয়। কোনোদিন যদি ওদের দেখা না পাই খুবই স্বস্তি লাগে।

সাধারণদের অভিযোগ, হিজড়াদের অপকর্মে বন্ধে প্রশাসন কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন খান ভোরের কাগজকে জানান, হিজড়ারা অবহেলিত জনগোষ্ঠী এবং তারা অনেক বেপরোয়া। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেবল আদালত নিতে পারে। আমরা তাদের টিম লিডারদের সঙ্গে কথা বলছি, সাধারণ মানুষদের শান্তি ফিরিয়ে আনতে তাদেরকে সরানোর ব্যবস্থা করছি। পিআর

LEAVE A REPLY