চীনের আগ্রাসী আচরণের জবাবে অস্ট্রেলিয়াকে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরামর্শ

চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী আচরণের কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তিগুলো। চীনের আগ্রাসী আচরণের কারণে সামরিকখাতে বাজেট বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। চীনের গৃহীত ‘নেকড়ে যোদ্ধা কৌশল’ প্রতিহত করতে কেমন পদক্ষেপ নিতে হবে সে বিষয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছে ক্যানবেরা ভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের মতামতধর্মী ও বিশ্লেষণমূলক সাইট দ্য স্ট্রাটেজিস্ট। গত ১২ সেপ্টেম্বর পিটার জেনিংসের China’s wolf-warrior tactics are here to stay শিরোনামে ওই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। 

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের কৌশলবিষয়ক সাবেক উপসচিব পিটার জেনিংস বলেন, একটি মাত্র দেশ ছাড়া চীন সবাইকে ‘ছোট রাষ্ট্র’ মনে করে। ব্যতিক্রমী সেই রাষ্ট্রটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। কারণ আগামী ৫/১০ বছর পরও তারাই সামরিক খাতে চীনের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। চীনের আগ্রাসী আচরণের ভীত না হয়ে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। সে জন্য অস্ট্রেলিয়াকে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি চীনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পিটার বলেছেন, চীনে ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন শি জিনপিং। চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি ও সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কের ক্ষমতাও তার হাতে। চীনে দৃশ্যত তার কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নেই যিনি শি জিনপিংয়ে তার আগ্রাসী নীতি সমালোচনা করতে পারেন বা এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন কিংবা প্রতিহত করতে পারেন।

পিটার জেনিংস আরও বলেন, সারা বিশ্বে চীনের কখনই কোনো ঘনিষ্ঠ, বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল না। তাদের কাছে নিজের জাতীয় স্বার্থই সবার আগে। নিজেদের জাতীয় ও ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো আচরণ শি জিনপিং বরদাশত করেন না। তারপরও বিগত কয়েক বছরে সারা বিশ্বে চীনের এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল যা এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীন বিরোধিতা স্পষ্ট। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেও চীনের বিষয়ে বীতশ্রদ্ধ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

হংকংয়ের বিষয়ে চীন ব্রিটেনের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তাইওয়ানের বিষয়ে তারা একই পদক্ষেপ নিচ্ছে। দালাইলামার সঙ্গে বৈঠক, ফাইভ-জি, কোভিড-১৯ বিষয়ে তাইওয়ানের অবস্থানসহ নানা কারণে তাইওয়ানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল চীন।

পিটার জেনিংসের মতে, শি জিনপিংয়ের বাবাকে একসময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে এবং শি জিনপিং দূরবর্তী এক গ্রামে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন বহু সময়। শি জিনপিং চান না তার পরিস্থিতি তার বাবার মতো হোক। তাই ক্রমেই দলের ভেতরে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করছেন তিনি। দেশের ভিতরে দলের অবস্থান জোরদার করছেন। 

পিটার জেনিংস লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেবে না নিশ্চিত হওয়ার পর দক্ষিণ চীন সাগরে চীন তার স্থাপনা নির্মাণ করেছে, সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। জিনজিয়াংয়ে, তিব্বতে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘন, কোভিড-১৯ নিয়ে চীনের ব্যর্থতার বিষয়ে বিশ্বের সমালোচনা চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

পিটার জেনিংসের মতে, শি জিনপিং ক্রমশ তার এক নেকড়ে যোদ্ধা কৌশল অব্যাহত রাখবেন। তাই তাদের এ আগ্রাসী নীতিতে ভীত না হয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে। চীনের আগ্রাসী আচরণে ভীত হলে আরও আগ্রাসী আচরণ করবে চীন।  

LEAVE A REPLY