কেমন আছেন ম্যারাডোনার বান্ধবীরা?

ভোরোনিকা ওজেদার সঙ্গে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী ম্যারাডোনা

ফুটবলের জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন। ফুটবলে রয়েছে ঈর্ষণীয় সব সাফল্য। ফুটবল দিয়ে পেয়েছেন বিশ্বব্যাপী খ্যাতি। তবে মাঠের ফুটবলে দ্যুতি ছড়ানোর পাশাপাশি মাঠের বাইরের প্রেমের ভুবনেও ছিলেন অতুলনীয়। তরুণীদের আকৃষ্ট করে কাছে টেনে নেয়ার এক গোপন ফর্মুলা জানা ছিল তার।

ম্যারাডোনার গোপন ফর্মুলার মাত্রাটা এতো বেশি ছিল যে খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ২০১১ সালে ৫০ বছর বয়সেও তার চেয়ে বত্রিশ বছরের ছোট অলিভার রোসিও সঙ্গে রোমান্সে জড়ান। ১৮ বছরের নারীর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেছেন।

এখন ২০১৯ এ এসে ৫৮ বছর বয়সে পা দিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি ম্যারাডোনা। ফুটবল ক্যারিয়ারের বর্নাঢ্য এ রঙ্গীন জীবনে অনেক নারীর সান্নিধ্যে জড়িয়েছেন তিনি। তবে তাদের কেউই এখন তার সঙ্গে নেই। ১৯৮৪ সালে বিয়েবন্ধনে জড়ানো ক্লাওডিয়া ভিলাফোনের সঙ্গেও বিশ বছরের সংসার জীবনের পর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এখন কেমন আছে তার রঙ্গীন জীবনের সেই বান্ধবীরা?

আর্জেন্টাইন সঙ্গীত শিল্পী লুসিয়া গালানের সঙ্গে ম্যারাডোনা

সালটা ১৯৮১। ম্যারাডোনার তখন বিশ্বব্যাপি খ্যাতি। সে বছর তিনি প্রেমের সম্পর্কে জড়ান আর্জেন্টাইন সঙ্গীত শিল্পী লুসিয়া গালানের সঙ্গে। গালানকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। তবে দুই বছর পর তাদের সেই সম্পর্কটি ভেঙ্গে যায়। গালান এখনো গান বাজনা নিয়েই ব্যস্ত আছেন। ম্যারাডোনার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর বিয়ে করেন তিনি।

১৯৮৪ সালে ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেন ম্যারাডোনা। সেখানে এক গলফ ক্লাবে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ক্রিশটিয়ানা সিনাগরা নামে এক ইতালিয়ান নারীর সঙ্গে। ক্রিশটিয়ানা সিনাগরার সঙ্গে তার প্রেম ছিল মাত্র কয়েক মাসের জন্য। সিনাগরার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে ১৯৮৫ সালে জন্ম হয় দিয়েগো জুনিয়র নামে এক ছেলে সন্তানের। তবে সেটি অজানাই ছিল দীর্ঘদিন। ছেলের ব্যপারে জানাজানি হয়ে গেলে ম্যারাডোনা প্রথমে সেটি স্বীকৃতি দিতে চাননি। তবে এখন সেই ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের। ক্রিশটিয়ানা সিনাগরা এখন ছেলে দিয়েগো জুনিয়রের সঙ্গেই রয়েছেন। কয়েক বছর আগে সিনাগরার সঙ্গে দেখাও করেন ম্যারাডোনা।

১৯৮৪ সালে ম্যারাডোনা বিয়ে করেন আর্জেন্টাইন নারী ক্লাওডিয়া ভিলাফেনকে। ২০০৩ সালে বিশ বছর একসঙ্গে থাকার পর ম্যারাডোনার অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে তাদের সেই সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। ঐ সময় ম্যারাডোনা মাদক থেকে ফিরে আসার জন্য চিকিৎসা নিতে যান কিউবায়। সেখানে প্রায় তিন বছর কাটান তিনি। ঐ সময় তার প্রেমের ব্যপারে কোন কিছু শোনা না গেলেও কয়েক বছর আগে খবর চাউর হয় কিউবায় তার তিনটি সন্তান রয়েছে। সেই তিন সন্তানকেও তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। ক্লাওডিয়া এখনো একাই রয়েছেন।

আর্জেন্টাইন মডেল ওয়ানদা নারার সঙ্গে প্রেমে জড়ান ম্যারাডোনা

২০০৬ সালে ম্যারাডোনা প্রেমের সম্পর্কে জড়ান আর্জেন্টাইন মডেল ওয়ানদা নারার সঙ্গে। ম্যারাডোনার বয়সের চেয়ে ওয়ানদার বয়সের ব্যবধান ছিল ২৬ বছর। তবে তাদের সেই সম্পর্কটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ওয়ানদা বর্তমানে প্রেম করছেন আরেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার মারিও ইকার্দির সঙ্গে। ওয়ানদার বয়সের চেয়ে ইকার্দি আবার পাঁচ বছরের ছোট।

১৯৮৪ সালে নাপোলিতে খেলার সময় ক্রিশটিয়ানা সিনাগরা নামে এক ইতালিয়ান নারীর সঙ্গে প্রেমে জড়ান ম্যারাডোনা

২০০৬ সালের পর তিনি সম্পর্কে জড়ান আর্জেন্টাইন স্কুল শিক্ষিকা ভেরোনিকা ওজেদার সঙ্গে। ভিরোনিকার সঙ্গে তার ২০১১ সাল পর্যন্ত সম্পর্ক ছিল। ম্যারাডোনা ঐ সময় ভিরোনিকাকে বাদ দিয়ে নিজের বয়সের চেয়ে ৩০ বছর কম বয়সী আর্জেন্টাইন তরুণী ফুটবলার রোসিও অলিভিয়ার সঙ্গে ড্যাটিংয়ে যাওয়া শুরু করেন। ঐ সময় রোসিওর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। এতে ভিরোনিকার সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। ভিরোনিকার ঘরে দিয়েগো ফার্নান্দো নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে ম্যারাডোনার।

রোসিও অলিভিয়ার সঙ্গে ম্যারাডোনা

২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রোসিও অলিভিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ম্যারাডোনার। এমনকি ২০১৮ সালে রোসিওর আঙ্গুলে বিয়ের আংটিও পড়ান তিনি। আর্জেন্টিনায় তাকে কিনে দেন বিলাসবহুল বাড়ি। তবে হঠাৎ করে রূপ পাল্টে যায় রোসিওর। ম্যারাডোনা ২০১৮ সালে মেক্সিকোর একটি ক্লাবের কোচের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ম্যারাডোনা তাকে মেক্সিকো থাকতে বললে দুজনের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে যায়। এরপর ম্যারাডোনাকেই তার কেনা বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে মামলাও করেন রোসিও। বর্তমানে কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে নেই রোসিও। ফুটবল খেলার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY