বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ -আড়াই বছর আগের অবস্থানে সূচক

দেশের পুঁজিবাজারে চলছে ধারাবাহিক পতন। পুঁজিবাজারকে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে ইতিমধ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিন্তু তার কোন প্রভাব দৃশ্যমান নয়। ধীরে ধীরে পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে গতকাল বড় পতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক কমে আড়াই বছর আগের অবস্থানে নেমে গেছে। এদিকে টানা পতনের কারনে ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ করছে বিনিয়োগকারীরা। বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবী তাদের। জানা গেছে, গতকাল সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯১ পয়েন্টে। যা ডিএসইতে ২ বছর ৬ মাস ১৪ দিন বা ৬১৬ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি আজকের চেয়ে কম পয়েন্টে অবস্থান করছিল। ওই দিন ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৮৩ পয়েন্টে। গতকাল ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২৪ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১৬৬ ও ১৮১৮ পয়েন্টে। ডিএসইতে ৩০৬ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৫৪ কোটি টাকার। অর্থাৎ ডিএসইতে লেনদেন ৪৮ কোটি টাকা কম হয়েছে।ডিএসইতে গতকাল ৩৫২টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩০৩টির বা ৮৬ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। দর বেড়েছে ৩৭টির বা ১১ শতাংশের এবং ১২টি বা ৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এ দিন ২৬২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬১৯ পয়েন্টে। এ দিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৪০টির, কমেছে ২২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির দর। আজ ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। পুঁজিবাজারে চলমান দরপতনের প্রতিবাদে টানা তিনদিন মতিঝিলের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেনের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষোভে বিনিয়োগকারীরা বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে পতন অব্যাহত রয়েছে। শুরু থেকেই আমরা পতন ঠেকাতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে আসছি। কিন্তু এতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ভ‚মিকা দেখা যাচ্ছে না। কেউই আমাদের দিকে নজর দিচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরা বলেন, সত্যিকার অর্থে যদি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় কাজ করত তবে এতদিন পুঁজিবাজারে স্থিরতা চলে আসত।
বাজারের এই দুর্দশা ফেরাতে চলমান অস্থিরতা দূর করতে আবারো বিএসইসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কমেছে ৮৮ পয়েন্ট। যা চলতি অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY