সম্মেলন শুরু আজ -জেলা প্রশাসকরা বিশেষ দায়িত্ব পাচ্ছেন

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গতিশীলতা বাড়ানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি-দর্শনের বাস্তবায়ন ও তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি)। আজ রবিবার শুরু হওয়া ডিসি সম্মেলনেই সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দায়িত্ব দেবেন বলে জানা গেছে।
পাশাপাশি প্রশাসনের সব স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। শতভাগ সম্পদ জনকল্যাণে ব্যবহারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন থেকে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এর উপকারিতা সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানোরও নির্দেশনা দেবেন। উন্নয়ন কাজে ফসলি জমি যেন নষ্ট না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখার পরামর্শ থাকবে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে। উদ্বোধনের পর মুক্ত আলোচনায় মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় শুনবেন ও নির্দেশনা দেবেন তিনি।
সরকারি সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেবেন ডিসিদের। এ ছাড়া, তৃণমূল-পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করা, গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির তাগাদা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
অতীতের মতো এবারের ডিসি সম্মেলনেও সরকারের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গ্রামের মুরব্বি, নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী, নারী সংগঠক, আনসার-ভিডিপি, গ্রামপুলিশ, এনজিওকর্মীসহ সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
অতীতে ডিসি সম্মেলন তিন দিনব্যাপী হলেও এবার দুদিন বেড়ে হচ্ছে পাঁচ দিন যা আগামী ১৮ জুলাই শেষ হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এবার ডিসি সম্মেলনে যুক্ত হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকারও। সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা প্রদানে বিভিন্ন অধিবেশনে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সচিবরা অংশ নেবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে কর্ম অধিবেশনগুলো সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরের ডিসি সম্মেলনে মোট ২৯টি সেশন হবে এবং সম্মেলনে ৩৩৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা, ভ‚মি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম জোরদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য দূরীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
১৫ জুলাই জেলা প্রশাসকরা ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে ৬টি কর্ম অধিবেশনে যোগ দেবেন। এইদিন বিকেলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারা। ১৬ জুলাই ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে ৫টি অধিবেশনে অংশ নেবেন ডিসিরা। এইদিন বিকেলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ১৭ জুলাই ৮টি অধিবেশন এবং ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ১৮ জুলাই সমাপনী দিনে ৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ডিসি সম্মেলন শেষ হবে।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY