ঘরের মাঠে সুবিধা পাবে ইংল্যান্ড, মরিয়া কিউইরা

দেড় মাস আগে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠেছিল দ্বাদশ বিশ্বকাপের। ওই ম্যাচের ভেন্যু ছিল লন্ডনের কেনিংটন ওভাল স্টেডিয়াম। অবশেষে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে চলতে থাকা ২২ গজের বিশ্বযুদ্ধের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আজ লন্ডনের লর্ডস স্টেডিয়ামে দ্বাদশ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে জয়ী দলের হাতেই উঠবে এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড এখন পর্যন্ত একবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারেনি। সে হিসেবে আজ ক্রিকেটের তীর্থভ‚মি লর্ডসের ফাইনালে জয়ী দল গড়বে নতুন ইতিহাস। গতকাল ফাইনাল ম্যাচকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও ইংল্যান্ডের দলপতি ইয়ন মরগান দুজনই বলেছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যের কথা। দুই অধিনায়কই এখন শিরোপা জয় ভিন্ন অন্য কিছু ভাবছেন না।
ইংলিশদের দাবি সময়ের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের জন্ম তাদের দেশেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত একবারও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি দলটি। তবে তিনবার শিরোপা জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। কিন্তু প্রতিবারই ফিরতে হয়েছে শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ নিয়ে। ইংল্যান্ড শেষবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল ১৯৯২ সালে। সে হিসেবে দীর্ঘ ২৭ বছর পর ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। এবার নিশ্চয় সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়বে না ইংলিশরা।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড এর আগে একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে। সেটা ২০১৫ সালে। সেবার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরেছে কিউইরা। গত বিশ্বকাপের আক্ষেপটা নিশ্চয় এবার ঘুচাতে চায়বে উইলিয়ামসনের দল।
হট ফেভারিট হিসেবেই দ্বাদশ বিশ্বকাপে অংশ নেয় ইংল্যান্ড। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে সেমিতে উঠে দলটি। আর সেমিতে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো ফাইনালের টিকেট পায় ইংলিশরা। অন্যদিকে লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে থেকে সেমিতে উঠে নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে উইলিয়ামসনের দল হারায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে।
ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নানান আলোচনা। দুদলের তুলনা করতে গিয়ে শুরুতেই বলতে হয় লিগ পর্বের ম্যাচটির কথা। দ্বাদশ বিশ্বকাপের লিগ পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রীতিমতো নাজেহাল হয়েছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি মরগানের দল জিতেছে ১১৯ রানের বড় ব্যবধানে। অতীত পরিসংখ্যানের বিচারে লর্ডসে হতে যাওয়া ফাইনালে অবশ্য ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ড কোনো দলকেই এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। কেননা দুই দলের জয়-পরাজয়ের হিসেবটা প্রায় সমান। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ৯০টি ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে ৪১টিতে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের নামের পাশে আছে ৪৩টি জয়। এ ছাড়া ৪টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। আর টাই হয়েছে ২টি ম্যাচ। বিশ্বকাপে দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ৫বার জিতেছে নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে ইংল্যান্ড জিতেছে ৪ বার।
ফাইনালের আগে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নিউজিল্যান্ডের কোচ গ্যারি স্টিড। এ সময় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইংলিশরাই ফেভারিট বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ইংল্যান্ড স্বাগতিক। কন্ডিশন ও উইকেট দুটোই তাদের পরিচিত। তাই ফাইনালে নিশ্চিতভাবে মরগানের দলই ফেভারিট। তবে আমরাও ভালো খেলে এতদূর এসেছি। এখন কে ফেভারিট কিংবা কে দুর্বল এসব নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। ম্যাচটি জিতে ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত আমার শিষ্যরা। কোচের কথারই পুনরাবৃত্তি মিলেছে অধিনায়ক উইলিয়ামসনের বক্তব্যে। তার মতে, আমরা গতবার খুব কাছে গিয়েও পারিনি। আশা করি এবার আর কোনো ভুল হবে না। আমরা প্রস্তুত। তবে ফাইনালের আগে একটা বিষয় আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। আর তা হলো ওপেনারদের রান না পাওয়া। মার্টিন গাপটিল অভিজ্ঞ। আমার প্রত্যাশা ফাইনালে সে একটি বড় ইনিংস খেলবে। এতে আমাদের জন্য ম্যাচ জেতা সহজ হয়ে যাবে।
এদিকে ছাড় দিতে নারাজ ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ইয়ন মরগান। তার মতে, আমরা অতীতে আরও তিনবার খুব কাছে গিয়েও শিরোপা হাতছাড়া করেছি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে আমরা। আর একটি ম্যাচ জিতলেই আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। নিউজিল্যান্ড কঠিন প্রতিপক্ষ। সেমিতে ভারতকে হারিয়েছে তারা। তাই ফাইনালে আমাদের জন্য যে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেটা জানি। তবে আমরা জিতেই মাঠ ছাড়তে চাই।
অতীতে অনুষ্ঠিত হওয়া ১১টি বিশ্বকাপ আসরের মধ্যে পাঁচবারই শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। দুইবার করে শিরোপা ঘরে তুলেছে উইন্ডিজ ও ভারত। আর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা একবার করে শিরোপা জিতেছে। বিশ্বকাপ জেতা দলগুলোর তালিকায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি নাম। সেই নামটি কি হবে? ইংল্যান্ড নাকি নিউজিল্যান্ড- উত্তর জানা যাবে লর্ডসের ফাইনাল শেষে।
ক্রিকেটের তীর্থভ‚মি লর্ডসে এর আগে আরও চারবার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করতে প্রস্তুত লর্ডস। আর নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মধ্যে আজ চিরকাল মনে রাখার মতো একটি ফাইনাল ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় আছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY