আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় শিশুকে ব্যবহার, নিহত ৯

তালেবান এবং আইএস জঙ্গিদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ছবি: বিবিসির ফাইল ছবি

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বিয়ের অনুষ্ঠানে এক শিশুকে ব্যবহার করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকালের এ ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছে।

আফগানিস্তানের নানগরহার প্রদেশের পাচিরাগাম এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। প্রদেশিক মুখপাত্র আতাউল্লাহ খুগানি বলেন, সরকারপন্থী বাহিনীর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে গতকালের হামলাটি চালাতে এক শিশুকে ব্যবহার করেছে জঙ্গিরা।

এ হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস)। আইএস আফগানিস্তানে আইএস খোরাসান নামে পরিচিত। পাচিরাগাম এলাকার দিকে সংগঠনটি বেশ সক্রিয়। এর আগেও দেশটিতে অসংখ্য প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে আইএস। গত বছর কাবুলের এক শিক্ষা কেন্দ্রে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়।

বিবিসি অনলাইন বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার বরাতে জানায়, গতকালের হামলায় মালিক নুর নামের এক শিশুকে ব্যবহার করা হয়। সরকারিপন্থী বাহিনীর যে কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, তাঁর দুই ছেলে মারা গেছেন।

তালেবান এবং আইএস জঙ্গিদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে আফগান নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করে সরকারপন্থী মিলিশিয়া বাহিনী।

তালেবান ও আফগান প্রতিনিধির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর অঙ্গীকার করে তালেবানরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দুই পক্ষ ‘শান্তির রোডম্যাপ’ তৈরিতে সম্মত হয়। বৈঠকের পরদিনই এই হামলা চালাল আইএস।

তালেবানরা দীর্ঘ ১৮ বছরের যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। আফগানিস্তান আর সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না–এই প্রতিশ্রুতিতে দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছে তারা।

আত্মঘাতী হামলায় শিশু ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়; এ বছরের শুরুর দিকে নাইজেরিয়ার বর্নো প্রদেশে দুই মেয়ে এবং এক ছেলেকে এ ধরনের হামলায় ব্যবহার করা হয়। গত বছর ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া গির্জায় হামলাকারীদের মধ্যে ৯ এবং ১২ বছর বয়সী দুই মেয়ে ছিল।

LEAVE A REPLY