‘‘তাইওয়ানকে অস্ত্র দেয়া চীনে হস্তক্ষেপের শামিল’’, যুক্তরাষ্ট্রকে বেইজিং

চীন স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানের কাছে সম্ভাব্য ২.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি ‘দ্রুত বাতিল’ করতে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দাবি জানিয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধ ট্যাঙ্ক ও বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ওয়াশিংটনের অস্ত্র বিক্রির এমন ঘোষণায় বিশ্বের ক্ষমতাধর এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। খবর এএফপি’র।

এ ব্যাপারে চীনের বিভিন্ন অভিযোগের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের জবাবে বলেছে, এসব অস্ত্র এশিয়ার ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখতে অবদান রাখবে।

গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত এ দ্বীপ রাষ্ট্রে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অস্ত্র সরবরাহ। একে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কে ইতোমধ্যে টানাপোড়েন আরো তীব্র হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং নিয়মিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, বেইজিং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির এমন পদক্ষেপের ‘কঠোর নিন্দা’ জানিয়েছে। কেননা, চীন তাইওয়ানকে এখনো তাদের ভূখন্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং আরও বলেন, ‘তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত এক চীন নীতির মারাত্মক লঙ্ঘন এবং এটি বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘সরাসরি হস্তক্ষেপের’ শামিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ) জানায়, সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির এ চুক্তির ব্যাপারে কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়েছে। এতে ১০৮টি এম১এ২টি আবরামস ট্যাঙ্ক, ২৫০টি স্টিঞ্জার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি বিক্রির কথা বলা হয়েছে।

ডিএসসিএ’র এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত ট্যাঙ্ক বিক্রি গ্রহীতা দেশের প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক বহরের আধুনিকায়নে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবেলায় তাদের সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখবে। এছাড়া এটি তাদের স্বদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে।

LEAVE A REPLY