হট ফেভারিট ইংল্যান্ডের সামনে লড়াকু উইন্ডিজ

উইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ মানেই স্কোরবোর্ডে রান, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উইন্ডিজ সফরে গিয়েছিল ইংলিশরা। সেখানেও দেখা গেছে এমন চিত্র। ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রায় সবগুলো ম্যাচই ছিল হাইস্কোরিং। এ ছাড়া লড়াইও হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। আজ আরো একটি উইন্ডিজ-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ দেখার সুযোগ ক্রিকেটপ্রেমীদের সামনে। তবে এবারের লড়াইয়ের মহাত্ম অনেক বেশি। কারণ ম্যাচটি যে বিশ্বকাপের। দ্বাদশ বিশ্বকাপের আজকের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও উইন্ডিজ। ম্যাচটির ভেন্যু সাউদাম্পটনের রোজ বোল স্টেডিয়াম। এ ম্যাচে যদি উইন্ডিজ জিতে তবে দারুণ জমে উঠবে এবারের বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াই।
বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছে ইংল্যান্ড। ইয়ন মরগানের নেতৃত্বাধীন দলটি দারুণ শক্তিশালী। ব্যাটিং-বোলি-ফিল্ডিং মিলিয়ে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ইংলিশরা। একে তো দল হিসেবে শক্তিশালী, তার ওপর আবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ, তাই ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে ইংল্যান্ড এবার হট ফেভারিট। প্রথম ম্যাচেই এর প্রমাণ দেয় মরগানের দল। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে তারা। পরের ম্যাচে অবশ্য আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪ রানে হেরে যায় ইংল্যান্ড। তবে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০৬ রানে হারিয়ে আবারো জয়ের ধারায় ফিরে দলটি। ৩ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট এখন টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্বাগতিকরা। আজ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে সেমিতে যাওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে মরগানের দল। ইংলিশ দলপতিও এখন কেবল শেষ চারের কথাই ভাবছেন। গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যটা অনেক বড়। শিরোপা জিততে চাই আমরা। তবে আপাতত সেমির কথা ভাবছি। আজ উইন্ডিজকে হারিয়ে আমরা শেষ চারের পথে একধাপ এগিয়ে যেতে চাই।
অন্যদিকে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করা উইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫ রানে হেরে যায়। পরের ম্যাচে ক্যারিবীয়দের প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। র‌্যাঙ্কিংয়ে এখন খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই জেসন হোল্ডারের দল। আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অবস্থান এখন ৮ নম্বরে। তবে ক্রিস গেইল, আন্ড্রে রাসেল, এভিন লুইস, কেমার রোচ, ওশান থমাস ও ড্যারেন ব্রাভোদের মতো ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলটিকে হেয় করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নিজ দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য সম্পর্কে বেশ ভালোই ধারণা রয়েছে উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা হয়তো ফেভারিটের তালিকায় নেই। কিন্তু আমাদের দলে বিশ্বমানের ক্রিকেটার রয়েছে। তারা জ্বলে উঠলে বিশ্বের যে কোনো দলকেই হারাতে পারব আমরা। ইংল্যান্ড কঠিন প্রতিপক্ষ। কিন্তু আমরাও সহজে হাল ছাড়তে নারাজ।
ইংল্যান্ড ও উইন্ডিজ এখন পর্যন্ত ১০১টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয়ের পাল্লাটা ইংলিশদের দিকে কিছুটা ভারি। মুখোমুখি লড়াইয়ের ১০১ ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ৫১টিতে, বিপরীতে উইন্ডিজের নামের পাশে আছে ৪৪ জয়। এ ছাড়া ৬টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। বিশ্বকাপে দুদলের ৫ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ের ৪টিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড। আর উইন্ডিজ জিতেছে কেবল একটি ম্যাচে।
তাই অতীত রেকর্ড, সাম্প্রতিক পারফরমেন্স ও র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান সবদিক থেকেই আজকের ম্যাচে ফেভারিট ইয়ন মরগানের দল। কিন্তু পাওয়ার ক্রিকেট খেলে অভ্যস্ত উইন্ডিজ তাদের দিনে হারাতে পারে যে কোনো দলকেই। তাই গেইল-রাসেলদের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্বস্তিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই ইংলিশদের সামনে। অবশ্য ইনজুরির কারণে ম্যাচটিতে রাসেলের না খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারকে ক্যারিবীয় ওপেনার ক্রিস গেইল কীভাবে সামলান সেটি দেখার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY