পর্দায়ও রণবীরের স্ত্রী দীপিকা

চলছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। আর এখন পর্যন্ত ভারত প্রতিটি খেলায় সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে সমর্থ হয়েছে। আজ ভারত ক্রিকেট বিশ্বে যত বড় দল বা পরাশক্তি উঠতে পেরেছে, এর পেছনে আছে অনেক গল্প, ইতিহাস আর লড়াই। আর সেই গল্পগুলোর ভেতরে যে গল্পটা এখনো ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের সুখস্বপ্নে এসে ধরা দিয়ে অজান্তে মুখে হাসি ফোটায়, অনুপ্রেরণা দেয়, তাদের জাগিয়ে তোলে প্রতিবার; সেটি ১৯৮৩ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গল্প।

কপিল দেবের হাতে বিশ্বকাপ, সেই ছবি কখনো অস্পষ্ট হবে না ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থেকে। চোখ বন্ধ করলেই তাঁরা ওই মুহূর্তে ফিরে যেতে পারেন। আর ‘এইটি থ্রি’ নামের চলচ্চিত্রে সেই ইতিহাস নতুন করে লিখতে আয়োজনের কোনো কমতি নেই। রূপালী পর্দায় কপিল দেব হবেন রণবীর সিং, সে তো সবাই জানেন। আর বড় পর্দায় কারা সেবারের বিশ্বকাপ জয়ের এক একজন কুশীলব হবেন, তাও পুরো বলিউড তন্ন তন্ন করে ঘেঁটে বের করা হয়েছে। আর এবার ঘোষণা এল—শুধু বাস্তবে নয়, পর্দায়ও রণবীর সিংয়ের স্ত্রী হবেন দীপিকা পাড়ুকন।

অর্থাৎ, দীপিকাকে দেখা যাবে রোমি ভাটিয়ার ভূমিকায়। বিশ্বকাপ জয়ের তিন বছর আগে ১৯৮০ সালে তাঁকে বিয়ে করেন কপিল দেব। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ে অমিয়া দেবের জন্ম ১৯৯৬ সালে। দীপিকাকে এই ছবিতে সহশিল্পী হিসেবে পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত রণবীর সিং। এই ছবির পরিচালক কবির খান ও দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে নিজের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রীর ভূমিকায় আমার স্ত্রীর চেয়ে আর কে-ই বা ভালো হতে পারে? ব্রিলিয়্যান্ট কাস্টিং!’

রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন

রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন

১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের একটার পর একটা উইকেট চলে যেতে দেখে স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কপিলের স্ত্রী রোমি। সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণের মুখে মাত্র ১৮৩ রান করে অলআউট হয়ে যায় ভারত। পরে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলে তিনি আবার স্টেডিয়ামে ফিরে আসেন। এ অংশটিই নাটকীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে সিনেমাটিতে। শুধু অভিনয়ই নয়, ‘এইটি থ্রি’র গল্প দীপিকার এতই পছন্দ হয়েছে যে তিনি এই সিনেমার সহ-প্রযোজক হতেও রাজি হয়েছেন।

রণবীর ও দীপিকার খুশি হওয়ার আরও কারণ আছে। তাঁরা বলিউডের সবচেয়ে ব্যস্ত তারকা দম্পতি। বিয়ের পর থেকে তো সেই শুটিংয়েই ছুটছেন। সংসার করার সুযোগ কই? তাই শুটিংয়েই যদি চুটিয়ে সংসার করার সুযোগ মেলে, এর চেয়ে খুশির খবর এই দম্পতির জন্য আর কী-ই বা হতে পারে? অন্যদিকে ‘এইটি থ্রি’ ছবির পেইজ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের নৌকায় দীপিকাকে তুলতে পারায় তারা সবাই ভীষণ খুশি।

‘পদ্মাবত’ চলচ্চিত্র ও বিয়ের পর এবারই প্রথম দীপবীরকে বড় পর্দায় দেখবেন দর্শকেরা। এই ছবি ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রিকেট নির্ভর ছবিগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। আর এই জুটি সেই ছবির একটা অংশ হওয়ায় সবাই যারপরনাই খুশি। তামিল, তেলেগু ও হিন্দি—এই তিন ভাষায় ২০২০ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তি পাবে ছবিটি।

LEAVE A REPLY