হঠাৎ ভারি বৃষ্টি -কক্সবাজারে লাখো পর্যটক হোটেল-মোটেলেই বন্দি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়ও কক্সবাজারে লাখো পর্যটক এসেছেন। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত লাখো পর্যটকে ভরপুর হলেও হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সবকিছু থমকে দাঁড়ায়। আগত পর্যটকের অধিকাংশই হোটেল-মোটেলে অনেকটা বন্দি অবস্থায় সময় কাটান। বৃষ্টির কারণে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে সৈকত এলাকা। তবে আরো পর্যটক উপস্থিত হবেন কক্সবাজারে- এমনটি জানালেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আগে থেকে হোটেল-মোটেল ঠিক করে বেড়াতে আসলেও বৃষ্টির কারণে হোটেলেই অনেকটা আটকা পড়েন লাখো পর্যটক। হোটেল মালিক ও ট্যুরিস্ট পুলিশের ভাষ্যমতে, গত তিন দিনে অন্তত ৪ লাখেরও বেশি পর্যটক সৈকত ভ্রমণে আসেন। যাদের অধিকাংশই হতাশ হয়ে হোটেল-মোটেলে অবস্থান করেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক পর্যটক গোসলে ব্যস্ত। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সবকিছু থমকে দাঁড়ায়। অন্যদিকে হোটেল না পেয়ে শহরের কলাতলী সড়কে বিভিন্ন হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অসংখ্য পর্যটক। তাদের সঙ্গে শিশুরাও। জীবনের প্রথম বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ভ্রমণে এসে দুর্ভোগে পড়তে হবে, তা তাদের জানা ছিল না।
ঢাকা থেকে আগত কামরুজ্জামান জানান, চার ছেলেমেয়ে নিয়ে সকালে কলাতলী হাঙর ভাস্কর্য মোড়ে নামেন। এরপর আশপাশের ১০-১২টি হোটেলে খোঁজ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোথাও কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে একটি হোটেলে কক্ষ পেলেও বৃষ্টির কারণে আর বের হতে পারেননি। এমন আবহাওয়াও ‘এত লোক এখানে আসবে, কল্পনাও করিনি।’ শহরের সুগন্ধা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মোড়েও
হোটেলের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে শতাধিক পর্যটককে। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ চরমে।
কটেজ ও গেস্টহাউজ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহম্মেদ বলেন, গত এক যুগে এত বিপুল পর্যটকের সমাগম কক্সবাজারে হয়নি। গত তিন দিনে সৈকত ভ্রমণে এসেছেন ৪ লাখের বেশি মানুষ। চার শতাধিক হোটেল-মোটেল-কটেজের কক্ষ অগ্রিম বুকিং থাকায় অনেকে বিপাকে পড়েন। বিভিন্ন এনজিও সংস্থা অন্তত অর্ধশতাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ অফিস হিসেবে ব্যবহার করায় আবাসন সংকট আরো তীব্র হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংকট আরো বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে অগ্রিম হোটেলকক্ষ বুকিং দিয়েই ভ্রমণে আসা উচিত। তিনি আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার লাখো পর্যটকে ভরপুর হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সবকিছু থমকে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে আগত পর্যটকদের অধিকাংশই আনমনা হয়ে হোটেলেই অবস্থান করেন।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অফ কক্সবাজারের (টুয়াক) সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, গত তিন দিনে চার লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। এর বিপরীতে যে ব্যবসা হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। পর্যটকরা সেন্টমার্টিন যাওয়ার সব কর্মসূচি বাতিল করেছেন। হোটেল-মোটেলের বাইরে রেস্টুরেন্টেও তেমন ব্যবসা হচ্ছে না। অনেক পর্যটক তাদের কার্যক্রম সীমিত করে এনেছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এত পর্যটক আসার পরও কোথাও তেমন জটলা নেই। সৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকরা দলে দলে পাহাড়ি ঝর্ণা হিমছড়ি, দরিয়ানগর, পাথুরে সৈকত ইনানী, টেকনাফের মাথিন ক‚প, নাফ নদী, মেরিন ড্রাইভ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়লেও বৃষ্টির কারণে তা এখন নেই। তবে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের সমস্যা সম্পর্কে সজাগ আছে প্রশাসন। পর্যটকদের কাছ থেকে হোটেলের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে আছে। পর্যটক হয়রানির যেকোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY