গত বিশ্বকাপের স্মৃতি নিয়ে এই বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিয়ার শুরুর অর্ধযুগ পেরিয়েও জাতীয় দলে থিতু হতে পারছিলেন না কোনোভাবেই, আবার স্থায়ীভাবে ছিটকেও পড়েননি কখনো। ছিলেন জাতীয় দলের আশেপাশেই। সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় শুনতে হয়েছে বিব্রতকর সব কথা।

তবে সে সব তিনি দূর করেছেন নিজের যোগ্যতায়। কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে পরিণত করেছেন অটোমেটিক চয়েজে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে হয়েছেন দেশের ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান, হাঁকিয়েছেন জোড়া সেঞ্চুরি। শতরানের দেখা পেয়েছেন আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও।

সবমিলিয়ে গত ৫-৬ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের নাম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যিনি বর্তমান দলের ফ্যান্টাসটিক ফাইভ তথা পঞ্চপান্ডবের একজন, দলের অন্যতম সিনিয়র খেলোয়াড়। গত বিশ্বকাপের সুখস্মৃতি সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ এবার যাচ্ছেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে।

অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের পথচলার শুরুটা এত মসৃণ ছিলো না মাহমুদউল্লাহর। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই যেনো নির্ধারিত হয়ে যায় তার পুরো ক্যারিয়ারের ভাগ্য। এক তামিম ইকবাল ব্যতীত অন্যদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ যখন অল্পেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়, তখন নিজের প্রথম ম্যাচেই ৩৬ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলে দলকে বলার মতো সংগ্রহ এনে দিয়েছেন তিনি।

হয়তো রথী-মহারথীদের মতো বাহারি শটের ভাণ্ডার নেই তার হাতে, নেই খুব একটা তারকাখ্যাতিও। শিল্পীর তুলির আঁচড় তার ব্যাটে খুঁজে পাওয়া যায় না সচরাচর; কিন্তু শ্রমিকের মতো ইটের পর ইট বসিয়ে শক্ত দালান তৈরি করতে জুড়ি নেই মাহমুদউল্লাহর। বিশেষ করে যেদিন ঘোর অমানিশা অন্যদের ব্যাটে, সেদিন ঠিকই বিপদের মুখে জেগে ওঠে একজন মাহমুদউল্লাহর ব্যাট। তাই ভক্ত-সমর্থকরা ভালোবেসে তাকে ডাকেন ‘বিপদের বন্ধু’ হিসেবে।

তাই বলে শুধু বিপদেই যে আলো ছড়ায় তার ব্যাট, এমনটা ভাবার কারণ নেই। বর্তমান দলে মিডলঅর্ডারে অন্যতম ভরসার নাম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিশ্বকাপের এক আসরে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬৫ রানের রেকর্ডটাও তারই দখলে। এবারের বিশ্বকাপেও মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ পারফরম্যান্সের প্রত্যাশায়ই থাকবে পুরো দেশ।

source: ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY