ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে ৬০ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি। রেড ক্রিসেন্ট এই তথ্য জানিয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, বেঁচে যাওয়া লোকজন তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লিবিয়ার উপকূল থেকে ৭৫ জন অভিবাসী একটি বড় নৌকায় করে ইটালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। গভীর সাগরে তাদের বড় নৌকাটি থেকে ছোটো একটি নৌকায় তোলা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ছোটো নৌকাটি ডুবে যায়।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, অভিবাসীবাহী নৌকাটি বৃহস্পতিবার লিবিয়ার জুওয়ারা থেকে রওনা হয়। ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাটি ডুবে যায়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকাটি প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে ডুবে যায়।

ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি

তিউনিসিয়ায় জারযিজে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে সাগর থেকে উদ্ধারকৃত কয়েকজন। অধিকাংশই বাংলাদেশি। ছবি: বিবিসি

তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিমকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নৌকাটি ছিল রাবারের তৈরি। অভিবাসীরা আরোহণের ১০ মিনিটের মধ্যে ডুবে যায় এটি।

তিনি আরও বলেন, নৌকাটিতে ৭৫ জন আরোহীর সবাই পুরুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫১ জনই বাংলাদেশি। তিনজন মিশরীয় এবং মরক্কো, শাদ ও আফ্রিকার অন্যান্য কয়েকটি দেশের নাগরিক ছিল।

এদিকে শনিবার সকালে তিউনিসিয়ার জেলেরা ১৬ জনকে উদ্ধার করে জারযিজ শহরের তীরে নিয়ে আসে। এর আগে শুক্রবার তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানায়, ঠাণ্ডা সাগরের পানিতে তারা প্রায় আট ঘণ্টা ভেসে ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের ১৪ জনই বাংলাদেশি।

ত্রিপলিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলী বিবিসিকে বলেন, তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তারা জারযিজে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে লিবিয়া থেকে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে অন্তত ১৬৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি

তিউনিসিয়ার একটি আশ্রয়শিবিরে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন। ছবি: এএফপি

LEAVE A REPLY