কর ফাঁকিতে সম্পত্তি জব্দসহ কঠোর শাস্তির বিধান আসছে

অনলাইনে কর আদায়ের বিধান রেখে আয়কর আইনের খসড়া প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। এতে ইটিআইএন, ই-রিটার্ন দাখিল, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিংসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ থাকছে। নতুন আইনের খসড়ায় রাজস্ব ফাঁকিবাজদের জেল, জরিমানা, হিসাব জব্দ, সম্পত্তি জব্দসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান থাকছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূূত্র জানায়, আইনের খড়সায় বড় বড় ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নজরদারির নির্দেশনা থাকছে। কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের তথ্য গোপন করা হলে তার জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জবাবদিহির নিয়ম রাখা হয়েছে। এ ছাড়া করযোগ্য না হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের প্রত্যেকের ইটিআইএন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে বিধান রয়েছে। করযোগ্য আয় থাকলে বাধ্যতামূলক ই-রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের কেউ আয়কর রিটার্নে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করার কথা আইনের খসড়ায় রাখা হয়েছে। আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাইয়ে সরকারি কর্মচারীদের সমান নজরদারি করা হবে তাদের স্ত্রী বা স্বামী ও সন্তানদের আয়-ব্যয়ের হিসাব। সারচার্জ বহাল রাখা হবে। নতুন আয়কর আইনের খসড়ায় সুপার ট্যাক্স গ্রুপ হিসেবে সম্পদশালীদের চিহ্নিত করে আয়কর আদায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা থাকবে। নতুন আয়কর আইনের খসড়ায় বাড়িওয়ালাদের আদায়কৃত ভাড়া থেকে হিসাব কষে রাজস্ব আদায়ে বিধান রাখা হচ্ছে। ২৫ হাজার টাকার বেশি ভাড়া আদায়ে পৃথক ব্যাংক হিসাব খুলে ভাড়া আদায়ের কথা আছে। ৫০ লাখ টাকা বা এর বেশি পরিমাণে আয়কর বকেয়া থাকলে এনবিআর থেকে এক বছরে তিনবারের বেশি সময় দেয়ার পরও পরিশোধ না করলে জেল, জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কতদিনের জেল ও কী পরিমাণ জরিমানা হবে তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

এদিকে নতুন আয়কর আইনের খসড়ায় করদাতাদের আয়-ব্যয়, স্থাবর, অস্থাবর সম্পদের হিসাবসহ আয়কর রিটার্নের তথ্য এনবিআরের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে গচ্ছিত রাখার নির্দেশনা থাকবে। রাজস্ব ফাঁকির তথ্য যাচাইয়ে এনবিআর সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনে তথ্যভাণ্ডার থেকে এসব তথ্য খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন। বিশেষভাবে আয়কর রিটার্নে দেয়া এক বছরের তথ্যের সঙ্গে পরের বছরের তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা মিলিয়ে দেখার সুযোগ থাকবে। রাজস্ব জালের সম্প্রসারণে নতুন আয়কর আইনের খসড়ায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলার জন্য বিশেষ কোড থাকবে। কোন করদাতা কোন উপজেলায় আছে, তা এ কোডের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। অর্থাৎ করদাতার ইটিআইএন-এর সঙ্গে উপজেলা কোড উল্লেখ থাকার কথা আয়কর আইনের খসড়ায় আছে।

নতুন আইনের খসড়ায় ধার্যকৃত আয়করের হার ন্যূনতম তিন বছরের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখার বিধান রাখা হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা নির্দিষ্ট হারে নির্ধারণ করা থাকবে, যা ন্যূনতম তিন বছরের মধ্যে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। নতুন আয়কর আইনের খসড়া অনুযায়ী বকেয়া কর আদায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইনে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজস্ব আদায়ের সব আইন যুগোপযোগী করতে প্রস্তুতি চলছে। এতে রাজস্ব আদায়ে আধুনিকতা আসবে। করদাতাদের হয়রানি কমবে। তারা রাজস্ব পরিশোধে আগ্রহী হবে। এ আইন হলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আরো অনেক বাড়বে।

LEAVE A REPLY