ছেলের জন্য আজহারের ক্রিকেটে ফেরা

ছেলে আসাদের সঙ্গে আজহার। ফাইল ছবি

ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ভারতের হয়ে ৯৯টি টেস্ট ও ৩৩৪টি ওয়ানডে খেলেছেন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। বর্তমানে রাজনীতিবিদ সাবেক এই ব্যাটসম্যানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা হায়দরাবাদে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেনও হায়দরাবাদের হয়ে। কিন্তু তাঁর ছেলে আসাদউদ্দিন এখন গোয়া দলের ক্রিকেটার

রঞ্জি ট্রফির দল গোয়া ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের কাছ থেকে একটা উপহারই পাচ্ছে। বিনা পয়সায় দলটির পরামর্শকের কাজ করবেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। আসলে কি বিনা মূল্যে, নাকি গোয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (জিসিএ)
মূল্য শুধবেন আজহারউদ্দিন? জিসিএ গোয়ার এবারের রঞ্জি দলে তাঁর ছেলে আসাদউদ্দিনকে জায়গা দিয়েছেন বলেই তিনি এই সেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
জিসিএর সম্পাদক দয়া পাজি সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে বলেছেন, ‘আসাদউদ্দিন তাঁর ছেলে এবং আমাদের দলের অংশ। এ কারণেই বিনা মূল্যে আমরা তাঁকে পরামর্শক হিসেবে পাব। ভারতের সাবেক অধিনায়ক আজহারউদ্দিনের মতো একজনের পরামর্শ পাওয়াটা গোয়া দল এবং এই রাজ্যের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য দারুণ কাজে আসবে।’ তবে বিষয়টি নিয়ে আজহারউদ্দিনের সঙ্গে জিসিএর লিখিত কোনো চুক্তি হয়নি।
ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ভারতের হয়ে ৯৯টি টেস্ট ও ৩৩৪টি ওয়ানডে খেলেছেন আজহারউদ্দিন। বর্তমানে রাজনীতিবিদ সাবেক এই ব্যাটসম্যানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা হায়দরাবাদে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেনও হায়দরাবাদের হয়ে। কিন্তু তাঁর ছেলে আসাদউদ্দিন এখন গোয়া দলের ক্রিকেটার। দয়া পাজির কথা, ‘আসাদউদ্দিনকে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে। তাকে আমরা একটি রুপিও দিচ্ছি না…আমরা অর্থসংকটে আছি আর এ কারণেই এই পথ বেছে নিয়েছি।’
২৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান আসাদউদ্দিন রঞ্জি ট্রফিতে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচই খেলেননি। তাঁর মতো একজনকে দলে নেওয়ায় বেজায় চটেছেন গোয়ার হয়ে ৯২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ২৭৫ উইকেট নেওয়া শাদাব জাকাতি। গোয়ার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি গত পরশু এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সে শুধু ভারতের সাবেক একজন অধিনায়কের ছেলে বলেই গোয়া দলে সুযোগ পাবে? তার বয়স ২৮ বছর আর কখনোই রঞ্জি ট্রফিতে কোনো ম্যাচ খেলেনি। এমনকি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও নেই। কোনো রাজ্য দলের হয়ে তার সর্বশেষ ম্যাচ ২০০৯ সালে, সেটাও আবার হায়দরাবাদ কোল্টসের হয়ে একটি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে।’
জাকাতি এখানেই থামেননি। ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চেন্নাই সুপার কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আর গুজরাট লায়ন্সের হয়ে খেলা বাঁহাতি স্পিনার বলেছেন, ‘সে উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে খেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোথাও সুযোগ পায়নি। আর এখন ব্যাপারটা এ রকম যে আমরা গিয়ে বললাম, “এই আমাদের গোয়া দল, এখানে খেলার জন্য তোমাকে স্বাগত জানাচ্ছি। ” আমাদের গোয়ার ক্রিকেটাররা কী দোষ করল? আমরাও তো কঠিন অনুশীলন করছি। আমরাও গোয়ার হয়ে খেলতে চাই। কিন্তু জিসিএর সভাপতি সুরাজ লতলিকারের গোয়ার খেলোয়াড়দের নিয়ে ভাবনা নেই।’
পুরো বিষয়টিকে জাকাতির কাছে গোয়ার ক্রিকেটারদের সঙ্গে জিসিএর ‘কৌতুক’ বলে মনে হচ্ছে। কে জানে, সত্যিই তাই কি না!

LEAVE A REPLY